আসন্ন বাজেটে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন জেলার জুম চাষাবাদ, ফলজ কৃষি এবং পরিবেশ উন্নয়নে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবী জানিয়েছেন পাহাড়ের পরিবেশ সচেতন নাগরিকরা। তারা বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা করতে পারলে যে কোন সংকটই উত্তোরণ করা সম্ভব। তারা আরো বলেন, জলবায়ু ও পরিবেশের ওপর যে ধরণের অত্যাচার চলছে, তা সহ্য করতে পারছেনা পৃথিবী। সে কারণে প্রকৃতি বিরূপ হয়ে পাল্টা জবাব দিচ্ছে। তারা খাগড়াছড়িসহ পার্বত্য চট্টগ্রামে যে কোন ধরণের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরো সংবেদনশীল হওয়ার আহবান জানান।
বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘তৃণমূল উন্নয়ন সংস্থা’র উদ্যোগে শুক্রবার সকালে এক ভার্চুয়াল সভায় আলোচকরা এসব কথাগুলো বলেছেন।
তৃণমূলের নির্বাহী পরিচালক রিপন চাকমার সঞ্চালনায় প্রবন্ধ সারাংশ তুলে ধরেন জীববৈচিত্র সংরক্ষন ও প্রতিবেশ গবেষক পাভেল পার্থ, জাবারাং এর নির্বাহী পরিচালক ও পরিবেশ গবেষক মথুরা বিকাশ ত্রিপুরা, রাঙামাটি বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের বন ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহকারি অধ্যাপক ড. নিখিল চাকমা, তৃণমূলের প্রোগ্রাম ম্যানেজার সুইচিং অং মারমা, এডভোকেট সৃজনী ত্রিপুরা, একুশে টিভির সাংবাদিক চিংমেপ্রু মারমা এবং খাগড়াছড়ি পরিবেশ সুরক্ষা আন্দোলনের সেক্রেটারি সাংবাদিক আবু দাউদ।
আলোচকরা শংকা প্রকাশ বলেছেন, মানবসৃষ্ট কর্মকান্ডে পাহাড়ের প্রাণবৈচিত্র্য এখন ধংসের মূখে। অপরিকল্পিতভাবে গড়ে উঠা জনবসতি এবং নির্বিচারে পরিবেশের ওপর নিপীড়ন বৃদ্ধি করায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে। প্রকৃতির নিয়মে বহমান ছড়া, খাল, নদী, প্রাকৃতিক জলাশয় আর পুকুরসমূহ দখল করে খাগড়াছড়ি শহরের ক্রমবর্ধমান অপরিকল্পিত উন্নয়নের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য হারিয়ে যাচ্ছে। তারা অত্যন্ত সংবেদনশীলভাবে উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়েছেন।
ভার্চুয়েল আলোচনায় বক্তারা বন ধংসের কার্যক্রম বন্ধ করে প্রাকৃতিক সব ধরণের বন সংরক্ষনের জন্য প্রচলিত পরিবেশ আইন এবং পার্বত্য চুক্তির পর সৃষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠানসমূহের আইনের কাঠোর প্রয়োগের দাবী তোলেন।
তারা বলেন, পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষই জুমচাষ নির্ভর জীবন ধারণ করেন। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পাহাড়ের সেসব প্রান্তিক মানুষগুলোর খাদ্য নিরাপত্তাও হুমকির মূখে ঠেকেছে। তাদের জুম চাষাবাদে আগের মত ফলন দিচ্ছেনা। ফলে বছরের বেশির ভাগ সময়টায় তারা খাদ্য সংকটে থাকেন। বাধ্য হয়েই জুম বীজের মাতৃজাতগুলো পর্যন্ত তারা খেয়ে ফেলেন। অথচ সারাদেশের কৃষিতে সরকার ভর্তুকি দিলেও জুমচাষীরা তা পাচ্ছেন না। সেজন্য তারা আসন্ন বাজেটে জুমচাষ উন্নয়ন ও সংরক্ষনে বিশেষ বরাদ্দ রাখার দাবী করেন।
