পার্বত্য চট্টগ্রাম প্রতিবেদন ॥
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান কার্যালয়স্থ মাইনী মিলনায়তনে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করা হয়েছে। সেমিনারে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল আলম নিজামী (অতিরিক্ত সচিব) এর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন সুদত্ত চাকমা, সচিব, তথ্য কমিশন, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার। বিশেষ অতিথি ছিলেন প্রফেসর ড. এ এফ ইমাম আলী উপাচার্য, বান্দরবান বিশ^বিদ্যালয়, রাঙামাটির ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুরর হমান, পিএসসি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় পার্বত্য চট্টগ্রামের উৎপাদিত কৃষিজ পণ্য সম্প্রসারণের লক্ষ্যে গত ২০১৪ সাল থেকে ইসিমোড, এফএও ও সরকারি বেসরকারিবিভাগ/দপ্তর/সংন্থারসহযোগিতায় ঢাকায় প্রতি বছর ৪দিন ব্যাপি বৃহত্তর পরিসরে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালন করা হয়েছিল। কোভিড সংক্রমণের কারণে এ বছর ঢাকায় আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস পালন করা হচ্ছে না বিধায় পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড স্বাস্থ্য বিধি মেনে সীমিত পরিসরে আন্তর্জাতিক পর্বত দিবস উপলক্ষে “পার্বত্য জীববৈচিত্র্য গড়ঁহঃধরহ ইরড়ফরাবৎংরঃু”শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করেছে।
ডজী ত্রিপুরা সহকারী পরিকল্পনা কর্মকর্তা, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড উপস্থাপনায় মঞ্চে উপবিষ্ট আমন্ত্রিত অতিথিদের পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের পরিবারের সদস্যদের মাধ্যমে উত্তরীয় প্রদান এবং অংশগ্রহণকারীদের পরিচয়পর্ব মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিক সেমিনার শুরু হয়। এরপর স্বাগত বক্তব্য রাখেন বোর্ডের সদস্য পরিকল্পনা ড. প্রকাশ কান্তি চৌধুরী (উপসিচব)। তিনি সেমিনারের পার্বত্য জীববৈচিত্র্য এবং আন্তর্জাতিক পবর্ত দিবস উদযাপন সংক্রান্ত বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ও তাৎপর্য বিষয়গুলো তুলে ধরেন। সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আরণ্যক ফাউন্ডেশন ঢাকা এর নির্বাহী পরিচালক ড. ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন প্রফেসর ড. এ এফ ইমাম আলী উপাচার্য, বান্দরবান বিশ^বিদ্যালয়, রাঙামাটির ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেড, রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ইফতেকুর রহমান, পিএসসি।
পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের ভাইস চেয়ারম্যান মোঃ নূরুল আলম নিজামী (অতিরিক্ত সচিব) সঞ্চালনায় সেমিনারে অংশগ্রহণকারীদের পক্ষে উন্মুক্ত আলোচনায় কৃষ্ণ চন্দ্র চাকমা, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজাতীয় শরণার্থী বিষয়ক টাস্কফোর্স অফিস, খাগড়াছড়ি, রাঙামাটি এবং বান্দরবান পার্বত্য জেলার জেলাপ্রশাসকের প্রতিনিধি, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব এসএম সরওয়ার কামাল, প্রবীণ সাংবাদিক সুনীল কান্তি দে, বিপ্লব চাকমা, নির্বাহী পরিচালক, আশিকা রাঙামাটি, রাঙামাটি চেম্বার অব কর্মাসের সভাপতি মোঃ বেলাল হোসেন ভূঁইয়া, রাঙামাটির বন বিভাগের সিএফ মুহাম্মদ সুবেদার ইসলাম, পবন কুমার চাকমা, উপ-পরিচালক ডিএই রাঙামািট এবং সুচরিতা চাকমা, নির্বাহী পরিচালক, প্রোগ্রেসিভ রাঙামাটি, শাপলা দেবী ত্রিপুরা, সাপারিগ্রুপ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিবৃন্দ, সুশীল সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ পার্বত্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে করণীয় সম্পর্কে সুচিন্তিত মতামতও পরামর্শ প্রদান করেন।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য কমিশনের সচিব এবং সেমিনারের প্রধান অতিথি সুদত্ত চাকমা “পার্বত্য জীববৈচিত্র্য গড়ঁহঃধরহ ইরড়ফরাবৎংরঃু”শীর্ষক সেমিনার আয়োজন করার জন্য পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডকে ধন্যবাদ এবং কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি বলেন, জীববৈচিত্র্য সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকার ২০১৭ সালে বাংলাদেশ জীববৈচিত্র্য আইন করা হয়েছে। সে আইনের আলোকে পার্বত্যাঞ্চলের সকল বিভাগ/দপ্তর/সংস্থা এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীদের সমন্বয়ে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে এগিয়ে আসতে হবে।
প্রধান অতিথি পার্বত্য চট্টগ্রামের প্রাকৃতিক পরিবেশের বিপর্যয়ের কথা উল্লেখ করে বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম বনভূমি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে আসছে। আগে বন-পাহাড় দু’টোই ছিল। এখন বন উজাড় হয়েছে আছে শুধু পাহাড়। আজ পাহাড়ের অবস্থাও তেমন ভাল নেই। বন নির্ভর পাহাড়ের মানুষের কথা চিন্তা করতে হবে। পার্বত্য জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হলে প্রাকৃতিক পরিবেশ ক্ষতি হয় না এমন দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করে কর্মসংস্থান সহায়ক টেকসই বিকল্প জীবিকায়ন প্রকল্প গ্রহণ করতে হবে। এক্ষেত্রে পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড, তিন পার্বত্য জেলা পরিষদসহ অন্যান্য সংস্থার মিলে মেগা কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করে পার্বত্য জীববৈচিত্র সংরক্ষণে অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে বলে দিক নির্দেশনা প্রদান করেন। আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী বিনির্মাণে সকলকে একসাথে সমন্বয় করে কাজ করার আহবান জানান।
সমাপনী বক্তব্যে সভাপতি বলেন, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড পার্বত্য জেলায় বসবাসরত গ্রামীণ জনমানুষের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য মিশ্র ফলচাষ, উন্নত জাতের মসলা চাষ, তুলা চাষ, সৌর বিদ্যুৎ সুবিধাদি প্রদান, সুপেয় পানি সরবরাহ, কৃষি ও সেচনালা, স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন, নারী ক্ষমতায়ন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড এসব কর্মসূচি গ্রহণের ফলে পাহাড়ের মানুষ এখন আগের চেয়ে ভাল অবস্থানে আছে। মানুষ ও জীববৈচিত্র্য এর অংশ উল্লেখ করে সভাপতি আরো বলেন, পাহাড়ি এলাকায় একসময় ১৬% এর বেশি বনভূমি ছিল। এখন তা কমে ১২% এর নিচে। জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ করতে হলে বন-পাহাড়কে রক্ষা করতে হবে।
তিনি আরো বলেন, বন-পাহাড়, ঐতিহ্য এবং মানুষের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে। পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড তিন পার্বত্য জেলায় সিইজিআইএস সহযোগিতায় ৪৫০০ পাড়াকেন্দ্র এর মাধ্যমে পানির উৎস জরিপ কাজ পরিচালনা করছে। জরিপ কার্যক্রম সম্পন্ন করে তিন পার্বত্য জেলায় পানির উৎস সংস্কারসহ মাস্টারপ্লান তৈরি হবে। এক্ষেত্রে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য রক্ষা পাবে। এর সুফল পার্বত্যবাসী শীঘ্রই ভোগ করতে হবে।
