জিয়াউল জিয়া
দেশে বাড়ছে প্লাস্টিক পণ্যের ব্যবহার। বিশেষ করে প্লাস্টিক বোতল ব্যবহারের পর যেখানে-সেখানে ফেলার কারণে পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে। পর্যটন শহর হিসেবে রাঙামাটিতে বোতলের ব্যবহার আরও বেশি। সচেতনতার অভাবে মানুষ যত্রতত্র এসব পণ্য ফেলার ফলে কাপ্তাই হ্রদের পানি দূষিত হচ্ছে, মাটি হারাচ্ছে উর্বরতা। যা পরিবেশ-প্রতিবেশের জন্য ভয়ংকর ক্ষতি। তবে এসকল বর্জ্যকে পুনঃউৎপাদনেরর কাঁচামাল তৈরিতে রাঙামাটিতে কাজ করছে দুটি ছোট প্রতিষ্ঠান। এতদিন পথেঘাটে পড়ে থেকে পরিবেশ নষ্ট করতো, সেই প্লাস্টিকই এখন মূল্যবান পণ্য। এসব কারখানায় সংগ্রহ করা সাড়ে সাতশো টন প্লাস্টিক থেকে সপ্তাহে গুঁড়া তৈরি জয় ৫ টনের মতো। তাতে বছরে আয় কোটি টাকার উপর।
কারখানা দুটিতে থেকে প্রতি সপ্তাহে ৫ টন প্লাস্টিক গুড়া জেলার বাহিরে পাঠানো হয়, আর কারখানায় কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করে ৫০ জন শ্রমিক। এসব কারখানা একদিকে যেমন ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্লাস্টিকের বর্জ্য সংগ্রহ করে পরিবেশ রক্ষা করছে, তেমনি সৃষ্টি হয়েছে কর্মসংস্থানও। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে বৃহৎ পরিসরে যেতে পারছেন না দাবি ব্যবসায়ীদের। আর এমন পরিবেশবান্ধব কাজে ঋণ সহায়তা দেয়ার আহবান চেম্বার নেতার।
দুটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করা শ্রমিক মো. হেলাল উদ্দিন ও মো. সামশু বলেন, ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা এসব ব্যবহৃত বোতল সংগ্রহ করে ভাঙারিরা দোকানে নিয়ে আসে। প্রক্রিয়াজাত করার লক্ষে সেখান থেকে ট্রাকযোগে নিয়ে যাওয়া হয় কারখানায়। কারখানায় নেয়ার পর বোতল ও অন্যান্য প্লাস্টিক পণ্য আলাদা করার কাজে ব্যস্ত সময় কাটে শ্রমিকদের। এরপর বোতলের লেভেল ছেড়া, রং অনুযায়ী পৃথক করা হয়। বাছাইকৃত বোতলগুলো প্রথমে কাটিং মেশিনে সাহায্যে ছোট ছোট টুকরো করা হয়। পরে সেগুলো পরিস্কার করার জন্য মেশিনের মাধ্যমে মেশানো হয় মেডিসিন। এরপর চৌবাচ্চায় ফেলে ধুয়ে প্লান্টের বাইরে রোদে শুকিয়ে প্যাকেটজাত করা হয়।

আরেক শ্রমিক ফাতেমা বলেন, বাড়ির কাছে প্লাস্টিকের কারখানা থাকায় কাজ করার সুযোগ পেয়েছি। যে অর্থ পাই তা পরিবারের কাজে লাগে। তবে মাঝে মাঝে বোতল সংকটে কাজ বন্ধ থাকে। তখন কস্ট হয়ে যায়।
রাঙামাটির মেসার্স এসবি প্লাস্টিকের সত্ত্বাধিকারী সুব্রত বড়ুয়া বলেন, প্যাকেটজাত রঙিন প্লাস্টিক টুকরাগুলো পাঠিয়ে দেয়া হয় ঢাকার বিভিন্ন কোম্পানীর কারখানায় আর সাদা বোতলের টুকরা চট্টগ্রামে এজেন্টের হাত হয়ে চলে যায় চীনে। প্লাস্টিকের এই বোতলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে।
মেসার্স রাঙামাটি প্লাস্টিকের সত্ত্বাধিকারী রাজা মিয়া বলেন, পুঁজির অভাবে আমরা ঠিকমতো ব্যবসা করতে পারছি না। উৎপাদিত কাঁচামাল বিদেশে গেলেও পরিবেশবান্ধব এই কাজে ঋণ সুবিধা পাওয়ার যায় না। ঋণ সুবিধা পাওয়া গেলে আরও অনেক বেশি প্লাস্টিকের বোতল সংগ্রহ করা যেত।
রাঙামাটি চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ রাঙামাটির ব্যাংকগুলো বিনিয়োগবান্ধব নয় অভিযোগ করে বলেন, এক্ষেত্রে ব্যাংগুলোকে এগিয়ে আসতে হবে। রিসাইকেনিং কোন ইন্ডাস্ট্রিজের জন্য ব্যাংক ঋণ দেয় না। এক্ষেত্রে ব্যাংকগুলোকে উদার হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
