কাপ্তাই প্রতিনিধি ॥
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার চন্দ্রঘোনা থানাধীন বাঙ্গালহালিয়ায় চট্টগ্রামের রাউজানের এক কাতার প্রবাসীর বাগান বাড়ি থেকে চাঞ্চল্যকর নুরুল আলম অপহরণ ও পাঁচ লাখ টাকা মুক্তিপণ আদায়ের ঘটনায় আব্দুস সালাম (৬০) নামের এক আসামিকে আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার সরফভাটা ইউনিয়য়নের ১নম্বর ওয়ার্ডের মীরের খিল জঙ্গল সরফভাটা পাহাড়ি এলাকা থেকে তাঁকে আটক করে চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ।
আটকের পর চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহারের নেতৃত্বে অস্ত্র উদ্ধারে অভিযানে নামে পুলিশ। উপপরিদর্শক (এসআই) মুহাম্মদ মাহফুজ ও এএস আই সোহেল ও ইকবাল সঙ্গীয় পুলিশের সহায়তায় অভিযানে আসামির দেওয়া তথ্যমতে একটি এক নলা বন্দুক ও চার রাউন্ড কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। আটক ব্যক্তি ওই এলাকার নজির আহমদের পুত্র। তাঁকে যে এলাকা থেকে আটক করা হয় সে এলাকার জঙ্গল থেকে অস্ত্র উদ্ধার করে পুলিশ। থানার ওসি ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
চন্দ্রঘোনা থানা পুলিশ জানিয়েছে, গত ১৮ দিন আগে আব্দুস সালামসহ আরও বেশ কয়েকজন সন্ত্রাসী মিলে রাউজান উপজেলার বাসিন্দা নুরুল আলমকে (৩৫) অপহরণ করে মোটা অংকের মুক্তিপণ আদায় করা হয়। ঘটনার নেপথ্য নায়ক আব্দুস সালাম। পুলিশ জানায়, আব্দুস সালাম বাবা নামে এলাকায় পরিচিত। তাঁর পরিকল্পনায় সংঘবদ্ধ স্থানীয় একটি সন্ত্রাসী চক্র নুরুল আলমকে তাঁর খামার বাড়ি থেকে অস্ত্রের মুখে অপহরণ করে ১ কোটি টাকা মুক্তিপণ দাবি করেছিল।
অপহরণের ঘটনায় নুরুল আলমের ভাই মো. কুতুব উদ্দিন গত ১২ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত ১টার দিকে অজ্ঞাতনামা ১০ থেকে ১২ জন সন্ত্রাসীকে আসামি করে চন্দ্রঘোনা থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয় রাঙ্গুনিয়ার দাগী সন্ত্রাসী একাধিক ডাকাতি, অপহরণ ও অস্ত্র মামলার আসামি এমদাদ এ ঘটনায় জড়িত। এমদাদ পদুয়ার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের জয়নগর গ্রামের আব্দুল নবীর ছেলে। তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
চন্দ্রঘোনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইকবাল বাহার চৌধুরী বলেন, আটক ব্যক্তি নুরুল আলম অপহরণ ঘটনার মূল হোতা। তাঁর কাছ থেকে অস্ত্র ও কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে আদালতের মাধ্যমে বুধবার কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনায় জড়িত চক্রের অন্যান্য সন্ত্রাসীদের গ্রেফতার অভিযান চলছে বলে জানান তিনি।
