সুহৃদ সুপান্থ
দশ বছর আগে,রাঙামাটি পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন সেই সময়কার পৌর বিএনপির সভাপতি সাইফুল ইসলাম চৌধুরী ভূট্টো। সরকারে আওয়ামীলীগ থাকার পরও সেই নিরপেক্ষ নির্বাচনে,২০১১ সালের ১৮ জানুয়ারি শেষ বিকালে বিজয়ের হাসি হেসেছিলেন বিএনপির ভূট্টো। ১০ হাজার ৮৯৩ ভোট পেয়ে সেদিন বিজয়ী হয়েছিলেন তিনি। মজার ব্যাপার হলো তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি কিন্তু আওয়ামীলীগ প্রার্থী ছিলেন না। ছিলেন স্বতন্ত্র প্রার্থী অ্যাডভোকেট প্রতীম রায় পাম্পু,যিনি পেয়েছিলেন ৮ হাজার ৯১৫ ভোট। অর্থাৎ ১৯৭৮ ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হয়েছিলেন ভূট্টো।
অন্যদিকে আওয়ামীলীগের প্রার্থী আব্দুল মতিন পেয়েছিলেন ৮ হাজার ১৬৩ ভোট। আর আরেক স্বতন্ত্র প্রার্থী মনিরুজ্জামান মহসিন পেয়েছিলেন ৬ হাজার ৬৩ ভোট।

সেই নির্বাচনে কাউন্সিলর হিসেবে নির্বাচিত হয়েছিলেন ১ নং ওয়ার্ডে মোঃ হেলালউদ্দিন,২ নং ওয়ার্ডে আব্দুল মালেক,৩নং ওয়ার্ডে নেয়াজ আহম্মেদ,৪নং ওয়ার্ডে আবু জাফর লিটন,৫ নং ওয়ার্ডে শিব প্রসাদ মিশ্র,৬ নং ওয়ার্ডে ধীরেন্দ্র চাকমা-,৭ নং ওয়ার্ডে রবিউল আলম রবি,৮ নং ওয়ার্ডে কালায়ন চাকমা,৯ নং ওয়ার্ডে মোঃ বিল্লাল হোসেন টিটু। সংরক্ষিত মহিলা ওয়ার্ডের ১ নং ওয়ার্ডে জায়তুন নুর বেগম, ২ নং ওয়ার্ডে রোকসানা আক্তার এবং ৩ নং ওয়ার্ডে জেবুন্নেসা রহিম ।
এদের মধ্যে হেলাল,মালেক,নেয়াজ,রবি,কালায়ন,টিটু,জায়তুন নূর,রোকসানা এবারো নির্বাচন করছেন। হেলাল,কালায়ন এবং টিটু নির্বাচন করছেন হ্যাট্রিক জয়ের আকাংখায়।
দলীয় কার্যালয় ভাংচুর,নেতাদের ধাওয়া
সেই নির্বাচনের ফলাফলে স্তম্বিত হয়ে পড়ে ক্ষমতাসীন আওয়ামীলীগের নেতাকর্মীরা। ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীরা এই পরাজয়ের জন্য দলের শীর্ষ নেতাদের কয়েকজনকে দায়ি করে দলীয় কার্যালয়ে ব্যাপক ভাংচুর করে। নির্বাচনের পরদিন জেলা আওয়ামীলীগ কার্যালয়ে কর্মীদের তোপের মুখে পড়েন বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা। এসময় কাউকে মারধর,কাউকে ধাওয়া দেয় নেতাকর্মীরা। এসময় ক্ষুদ্ধ নেতাকর্মীদের ক্ষোভের মুখে পড়ার শংকায় বেশ কিছুদিন দলীয় কার্যালয়মুখি হননি সেই সময়কার জেলা কমিটির বেশ কয়েকজন সিনিয়র নেতা।
কাউন্সিলর প্রার্থী বাবুকে মারধর

ভোটের দিন তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছাত্রলীগের একদল উচ্ছৃংখল কর্মী রাঙামাটি পৌরসভার ৪ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর প্রার্থী এবং সাবেক কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বাবুকে ব্যাপক মারধর করে। মারাত্মক আহত বাবুকে প্রথমে রাঙামাটি মেডিকেল হাসপাতাল এবং পরে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিলো। বাবুর ছোটভাই আব্দুর রাজ্জাক অভিযোগ করেছিলেন-ছাত্রলীগ নেতা তৈয়ব আলীর নেতৃত্বে একদল সন্ত্রাসী তাদের বাসায় হামলা করে তার ভাই বাবু এবং তার স্ত্রীকে ব্যাপক মারধর,ঘরে ভাংচুর করে ও লুটপাট করে । পরে এলাকাবাসীর প্রতিরোধের মুখে তারা পালিয়ে যায়।’
