জিয়াউল জিয়া
রাঙামাটির জেলা প্রশাসককে করোনা ভ্যাকসিন (টিকা) প্রয়োগের মধ্যদিয়ে জেলায় শুরু হয়েছে এর কার্যক্রম। রবিবার সকালে রাঙামাটি জেনারেল হাসপাতালে এই কার্যক্রম শুরু হয়।
এরপর একে একে টীকা গ্রহণ করেন সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা, পুলিশ সুপার মীর মোদ্দাচ্ছের হোসেন, চাকমা সার্কল চিফ ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায়সহ স্বাস্থ্যকর্মী ও পেশাগত দায়িত্ব পালনে নিয়মিত বের হওয়া সম্মুখসারির যোদ্ধারা।
টীকা গ্রহণ শেষে সম্মুখযোদ্ধারা বলেন, প্রথম দিনেই টীকা নিতে পেরে নিজেকে ভাগ্যবান মনে হচ্ছে। এমন সুযোগ তৈরি করে দেবার জন্য সরকারের নিকট কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তারা আরও বলেন কোন প্রকাশ অপপ্রচারে কান না দিয়ে সকলে যাতে এই টীকা গ্রহণ করে কোভিট মুক্ত দেশ গড়তে সরকারকে সহায়তা করে।
সাংবাদিকসহ ১৫ ধরনের পেশাজীবীকে সরকারের পক্ষ থেকে সম্মুখযোদ্ধা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়েছে। এদের পাশাপাশি দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তান সব মুক্তিযোদ্ধা এবং বয়োজ্যেষ্ঠ নাগরিকরা প্রথম ধাপের অগ্রবর্তী তালিকায় রয়েছেন। সুরক্ষা অ্যাপ নিবন্ধন করে সেখানে পাওয়া এসএমএস অনুযায়ী ভ্যাকসিন গ্রহণের কথা বলা হয়েছে। জেলা হাসপাতাল এবং উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সকাল ৮টা থেকে বেলা আড়াইটা পর্যন্ত টিকাদান কর্মসূচি চলবে।
সিভিল সার্জন বিপাশ খীসা বলেন প্রতি মাসে মাসে টিকা আসবে। অত্র এলাকার সকল জনগোষ্ঠী এই টিকার আওতায় আসবে। অনেকের মধ্যে কিছুটা বিভ্রান্ত থাকলেও আজকের পর আশা করি সকল বিভ্রান্ত কেটে যাবে।
চাকমা সার্কল চিফ ব্যরিস্টার দেবাশীষ রায় বলেন, আমি নিজেকে সৌভাগ্যমান মনে করি। দেশবাসিসহ এই অঞ্চলের মানুষকে আহ্বান জানাবো টিকা সংক্রান্ত কোন বিভ্রান্ত না হয়ে যেখানে সুযোগ পাবেন সেখানেই টিকা গ্রহণ করুন।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ বলেন, আমি টিকা গ্রহণ করেছি এবং সুস্থ্য আছি। টিকা নিয়ে অনেকে বিভ্রান্ত ছড়াচ্ছে সেদিকে কান না দিয়ে অ্যাপের মাধ্যমে আবেদন করুন এবং টিকা গ্রহণ করুন।
প্রসঙ্গত, বিশ্বের ৫৪তম দেশ হিসেবে করোনা ভাইরাসের ভ্যাকসিন (টিকা) প্রয়োগ শুরু করেছে বাংলাদেশ। প্রাথমিকভাবে ঢাকায় এই কর্মসূচির উদ্বোধনের পর আজ রবিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একযোগে শুরু হয়েছে এই কর্মসূচি।
