জিয়াউল জিয়া
উচ্চ আদালতের নির্দেশে কাপ্তাই হ্রদে দখলদার উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনেও ব্যাপক তোপের মুখে প্রশাসন। দ্বিতীয় দিনে রাঙামাটি কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালে আভিযানে গিয়ে দখলকারীদের তোপের মুখে পড়েন অভিযানে অংশ নেয়া নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। অভিযানে মাত্র ৩ টি দোকান ভাঙ্গার পরেই দখলদাররা সংঘবদ্ধ হয়ে উচ্ছেদকারী দলের ওপর চড়াও হয়। দখলদারদের পক্ষে অবস্থান করতে দেখা গেছে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও। একাধিক পৌর কাউন্সিলরকে সক্রিয় দেখা যায় দখলদারদের পক্ষে।
অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার এনেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করতে না পেরে বাধ্য হয় উচ্ছেদ স্থল ত্যাগ করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। তবে সবার থাকে কথা বলে পরবর্তি পদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানান জেলা প্রশাসক। পাঁচ একরের এই বাস টার্মিনালের ৩ পাশে চারশত’র অধিক অবৈধ দখলদার হয়েছে।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে অতিরিক্ত পুলিশ ও আনসার মোতায়নের পরও দখলদাররা বেপরোয়া হয়ে বিক্ষোভ শুরু করেন। নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট চেষ্টা করেও তাদের নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যার্থ হয়। পরে তারা উচ্ছেদ স্থল ত্যাগ করেন। তার কিছুক্ষণ পরে স্কেভেটার, পুলিশ ও আনসার সদস্যরা চলে যায়। এতেও ক্ষেন্ত হয়নি দখলদারা, মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে গিয়ে উচ্ছেদ বন্ধের আবেদন জানায়। তাদের অভিযোগ কোন নেটিশ প্রদান করা হয়নি।
দখলদাররা দাবি করে, আমাদের সকল কাগজপত্র আছে। এভাবে হুট করে সব কিছু ভেঙ্গে ফেললে আমরা কোথায় যাব। যদি সব কিছু ভেঙ্গে ফেলতে হয় তার আগে আমাদের থাকার জন্য জায়গা করে দিক সরকার। দীর্ঘদিন জেলা প্রশাসক মহোদয় জমি বন্দোবস্তি বন্ধ করে রেখেছে। আমরা খাস জমিতে বসবাস করছি। আর রাঙামাটির পুরো শহর লেকে পাশ ঘিরে মানুষ বসবাস করে। এভাবে সব ভেঙ্গে দিলে লোকজন কোথায় যাবে। আগে আমাদের ঘরগুলো না ভেঙ্গে বড় বড় দালানকোঠাগুলো আগে ভাঙ্গা হউক।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নাজমা বিনতে আমিন বলেন, আদলতের আদেশ আমরা মানতে বাধ্য। বাধা আসলেও আমরা আমাদের কাজ করে যাব। গতকাল আসামবস্তি এলাকায় গিয়েছিলাম সেখানেও স্থানীয়রা সময় চেয়েছে তাদের সময় দেয়া হয়েছে। আজও বাস ট্রার্মিনাল এলাকাও অপসরণ করার সময় তারা সময় চেয়েছে তাদেরও সময় দেয়া হয়েছে। তার মানে এই নয় যে, উচ্ছেদ বন্ধ।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, গতকালও উচ্ছেদে বাধা প্রদান করছে দখলদাররা। বাধা থাকবেই তার মধ্যেই কাজ করে যেতে হবে। এটি মহামান্য হাইকোটের আদেশ। এটাকে অমান্য করার কোন সুযোগ নাই। সবার এই কাজে সহযোগিতা চাই আমরা। বিশেষ করে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের।
