সাইফুল হাসান
ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আমেজ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে। আমেজে পিছিয়ে নেই পার্বত্য জেলা রাঙামাটিও। তাইতো এই পার্বত্য জেলার ফুটবলপ্রেমিদের জন্য গত ৩০ বছর ধরে পতাকা তৈরি করে আসছেন তুষার পাল।
রাঙামাটি শহরের বনরুপাস্থ একটি টেইলার্সের স্বত্বাধিকারী তুষার পাল, বয়স প্রায় ৬০ বছর। এখনো নিজের হাতেই তৈরি করছেন বিভিন্ন দেশের পতাকা। তার তৈরিকৃত পতাকাই শোভা পাচ্ছে রাঙামাটি শহরের বিভিন্ন অলি-গলিতে। বিশ্বকাপ এলেই নানান দেশের পতাকা তৈরিতে ব্যস্ত সময় পার করেন তিনি। আনন্দ-উল্লাস নিয়ে নানান রঙ-বেরঙের ভিন্ন ভিন্ন দেশের এই পতাকাগুলো তৈরি করে থাকেন তিনি।
তিন পুত্র সন্তানের জনক এই তুষার পাল পতাকা তৈরি করেই চালান তার সংসার। তিন ছেলেকেই পড়াশুনা করিয়েছেন তিনি। বড় ছেলে রানা পাল বর্তমানে পড়ালেখার গন্ডি পেরিয়ে গাছ ব্যবসার সাথে জড়িত, মেঝ ছেলে মান্না পাল রাঙামাটি সরকারি কলেজে বিবিএতে অধ্যায়নরত এবং ছোট ছেলে মুন্না পাল এবছর এসএসসি দিয়েছেন।
বাবার কাজে সহযোগিতা করেন সবই ছেলেই। মেঝ ছেলে মান্না পাল বলেন, আমার বাবা দীর্ঘদিন ধরে এই পতাকা তৈরি করে আসছেন। যখন পতাকার অর্ডার বেশি হয় তখন আমরাও আমাদের সুযোগ মত বাবাকে কাজে সহযোগিতা করি।
পতাকা কারিগর তুষার পাল বলেন, আমি গত ৩০ বছর ধরে এই পতাকা তৈরি করে আসছি। আমি সাধারণত জাতীয় পতাকা তৈরি করে থাকি। বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও অফিসের জন্য তৈরি করি জাতীয় পতাকা। দেশের যেনো দুর্নাম না হয়, সম্মান থাকে সে লক্ষ্যে নিজ হাতে সুন্দর করে পতাকা তৈরি করে আসছি।
বিশ্বকাপ ফুটবল দলের পতাকা তৈরি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চার বছর পরপর বিশ^কাপ অনুষ্ঠিত হয়। ছেলেদের আনন্দ দেওয়ার জন্য এই পতাকা তৈরি করি। প্রতিটি পতাকা ঐ দেশগুলো সম্মান বজায় রেখেই তৈরি করে থাকি। এক প্রশ্নে জাবাবে তিনি বলেন, আর্জেটিনা ও ব্রাজিলের পতাকার চাহিদা সব চেয়ে বেশি। আমি চেষ্টা করি সব পতাকা সুন্দর করে তৈরি করতে।
