বাড়ি নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণার পর রাঙামাটির জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও ভালোবাসা জানিয়েছেন জাতীয় মহিলা ফুটবল দলের খেলোয়াড় রূপনা চাকমা। সোশ্যাল মিডিয়ায় দেয়া এক স্ট্যাটাসে রূপনা লিখেছেন-
‘ধন্যবাদ রাঙ্গামাটি ডিসি স্যারকে আজকে আমাদের বাড়িতে গিয়ে আমার পরিবারের অবস্থা দেখে আসার জন্য। এছাড়া বিভিন্ন মিডিয়াও সাংবাদিক বৃন্দকে আমাকে সাপোর্ট দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই আনন্দটা হয়তো বলে শেষ করতে পারবো না – এখানে আর একটা কথা না বললে নয়, আমি আজ এই পয়ার্যে আসার জন্য যে সমস্ত স্যাররা আমাকে সহযোগিতা করেছেন তাদের প্রতিও আমি চির কৃতজ্ঞ।
আজকে যারা আমাকে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে এবং সাপোর্ট দিচ্ছেন তাদেরকেও আমি অনেক অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি। আজকের দিনটা আমার জন্য বিশেষ দিন। ডিসি স্যার নিজেই আমার বাড়িতে গিয়ে ১.৫ (দেড় লক্ষ) টাকা চেক মায়ের হাতে প্রদান করলেন এবং আমার ছোট্ট বেড়া ঘরটি ভেঙ্গে একটি নতুন পাকা ঘর করে দেওয়ার জন্য প্রতিসূতি দিয়েছন আরও আমাদের গ্রামে বাঁশের ভাঙ্গা ব্রিজটা নতুন করে পাকা ব্রিজ করে দেওয়ার জন্য কথা দিয়েছেন। জানিনা এইসব আমার পাওয়ার যোগ্য কিনা তবে আমি জীবন বাজি রেখে দেশের জন্য সুনাম বয়ে আনতে চাই। সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের বাংলাদেশকে আমরা রিপ্রেজেন্ট করতে পেরেছি এবং শ্রেষ্ট গোল রক্ষক হিসেবে আমি নির্বাচিত হয়েছি। শুধু এখানে নয় আমি আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে চাই এবং বাংলাদেশের নারী ফুটবলকে আরো বড় আকারে রিপ্রেজেন্ট করতে চাই। আশা করি আপনাদের এই রকম সাপোর্ট, অনুপ্রেরণা এবং আর্শিবাদ আমার মূল চালিকা শক্তি হিসেবে কাজ করবে- আরও দূরে এগিয়ে যাওয়ার জন্য সাহজ যোগাবে
ডিসি স্যারের সুস্থও সুন্দর জীবন কামনা করি ।’
এর আগে মঙ্গলবার রূপনা চাকমার বাসায় গিয়ে তার জরাজীর্ণ ঘর দেখে তাকে নতুন বাড়ি করে ও বাড়ি যাওয়ার পথের নাজুক সেতুটি নির্মাণ করে দেয়ার ঘোষণা দেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান। তিনি একই সময় ফলমূল মিষ্টি ও দেড় লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন রূপনার মায়ের হাতে। জেলা প্রশাসক এই সময় রূপনার মায়ের সাথে সেলফিও তোলেন।
পরে জেলা প্রশাসক সাংবাদিকদের বলেন- “চোখে না দেখলে কেউ বিশ্বাসই করতে পারবে না, এই মেয়েটা কোথা থেকে উঠে এসেছে। জীবন-সংগ্রাম কী জিনিস, তাই যেন নিজের চোখে দেখলাম।”
