সকাল কিংবা রাতে নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য ত্রাণ নিয়ে বাড়ি বাড়ি ছুটছেন রাঙামাটির জুরাছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান।
তিনি ইতিমধ্যে জুরাইছড়ি উপজেলার প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘোষণা দিয়েছেন, ‘জুরাইছড়িবাসীকে এই বলে আশ^স্ত করতে চাই যে সরকার এবং উপজেলা প্রশাসন এই দুর্যোগের মুহুর্তে আপনাদের পাশে রয়েছে। আপনারা খাদ্য নিয়ে চিন্তা করবেন না। উপজেলা প্রশাসন যেভাবেই হোক আপনাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করবে।’
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ইতিমধ্যে জুরাইছড়ি উপজেলায় দুই ধাপে ১০টন চাউল ও নগদ ৭৫ হাজার টাকা সরকারি ত্রাণ পৌঁছেছে। এই সকল সরকারি ত্রাণ জুরাইছড়ি উপজেলায় নি¤œ আয়ের মানুষের কাছে পৌঁছাতে তা ইউনিয়ন গুলোর চেয়ারম্যানদের মধ্যে বন্টন করে দেওয়া হয়েছে। যাতে করে তারা ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে প্রত্যন্ত এলাকায় পর্যন্ত নি¤œ আয়ের মানুষের মাঝে বিতরণ করতে পারে।
এই সকল ত্রাণ ছাড়াও সমাজের বিত্তবান মানুষ ও বিভিন্ন সংগঠন যারা ত্রাণ বিতরণ করতে চায় তাদের থেকে ত্রাণ বা ত্রাণের অর্থ সংগ্রহ করে এই উপজেলা নির্বাহী অফিসার ত্রাণের সামগ্রী নিয়ে বিতরণে নি¤œআয়ের মানুষের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন। খেয়াল রাখছেন ত্রাণ বিতরণে সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিত করণে।
এই সব ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করতে তিনি রাতের বেলায়ও ছুটছেন নি¤œআয়ের মানুষের দুয়ারে দুয়ারে। ব্যক্তিগত ভাবে সংগৃহিত এই সকল ত্রাণ সামগ্রী নি¤œআয়ের মানুষের পাশাপাশি যেসকল মানুষ পেশাগত ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন তাদেরও বিতরণ করা হচ্ছে।
রাঙামাটির জুরাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মাহফুজুর রহমান জানান, নভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রামণ প্রতিরোধে সাধারণ ছুটিতে যাতে করে মানুষকে না খেয়ে থাকতে না হয়, সেজন্য সরকারি ত্রাণগুলো আমরা ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে বিতরণ কার্যক্রম শুরু করেছি। আর যেসকল ত্রাণ বিভিন্ন সংগঠন ও বিত্তবানদের কাজ থেকে সংগৃহীত তা আমি যাচাই বাছাই করে দিচ্ছি, প্রকৃত পক্ষে যারা পাওয়ার অধিকার রাখে তাদের। দিনে সরকারি ত্রাণ বিতরণ করে রাতে ব্যক্তিগত ভাবে সংগৃহীত ত্রাণ বিতরণ করছি উপজেলা সদরের আশপাশের গ্রামে। সব জায়গায় সামাজিক দুরুত্ব নিশ্চিতের বিষয়টি আমরা মাথায় রেখে কাজ করছি। যার কারণে ভীড় এড়াতে বিভিন্ন গ্রামের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁচ্ছে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন-উপজেলার সবগুলো গ্রামে যাওয়ার ইচ্ছে থাকলেও দুর্গমতার কারণে সব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না আমার। যেসব জায়গায় যাওয়া সম্ভব হচ্ছে তার সবগ্রামে গিয়ে মানুষের কাছে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছি বাড়ি বাড়ি এবং ত্রাণ কার্যক্রমের মনিটরিং করছি। বাকি জায়গাগুলোতে ইউনিয়ন পরিষদগুলোর মাধ্যমে বিতরণ করা হচ্ছে।
সর্বশেষ বৃহস্পতিবার জুরাছড়ির সাধারণ মানুষের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা পরিবারের কাজ থেকে ত্রাণ বাবদ দশহাজার টাকা গ্রহণ করেছেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
