শংকর হোড় ॥
ভূ-প্রকৃতিগত কারণে পার্বত্যাঞ্চলে আবাদযোগ্য ভূমির পরিমাণ এমনিতেই কম, কিন্তু আধুনিক কৃষি কলাকৌশল ও প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে স্বপ্ল জমিতেই অধিক কৃষি পণ্য উৎপাদনে কৃষকদের তাগিদ দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক তপন কান্তি পাল। তিনি বলেন, আমাদের দেশে কৃষি জমির পরিমাণ অন্যান্য দেশের তুলনায় কম। এর মধ্যে প্রতিবছর ৭০-৮০ হেক্টর জমি কমে যাচ্ছে। আবার প্রতিবছর ২৫-৩০ লক্ষ নতুন মুখের সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের ন্যায় একটি দেশে খাদ্য যোগান দেওয়া একটি চ্যালেঞ্জ। বর্তমানে ইউক্রেন-রাশিয়া যুদ্ধের কারণে সেই চ্যালেঞ্জ বেড়েছে আরো কয়েকগুণ। পৃথিবীতে এমন একটা সময় আসবে যখন মানুষের পকেটে টাকা থাকবে, কিন্তু পণ্য থাকবে না। তাই তো সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় আবাদী জমির পরিমাণ বৃদ্ধির বিকল্প নেই। রবিবার কৃষি তথ্য সার্ভিস, আঞ্চলিক কার্যালয়, রাঙামাটি অঞ্চলের আয়োজনে জেলা প্রশিক্ষণ কার্যালয়ে বিভিন্ন উপজেলার কৃষি কর্মকর্তাদের নিয়ে দিনব্যাপী কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি থাকবে না-মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশনা বাস্তবায়নে করণীয় শীর্ষক কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাসিম হায়দার। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন খাগড়াছড়ি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা মো. বাছিরুল আলম, রাঙামাটি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের জেলা প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা আপ্রু মারমা, হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক মো.কাজী শফিকুল ইসলাম, কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী।

কর্মশালায় পাওয়ার পয়েন্টে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কৃষি তথ্য সার্ভিসের আঞ্চলিক কৃষি তথ্য অফিসার প্রসেনজিৎ মিস্ত্রী। তিনি বলেন, পার্বত্য অঞ্চলে আবাদি জমির পরিমাণ দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় অনেক কম। পাহাড়ি অঞ্চলের কারণে এখানে সমতল জমির পরিমাণ খুবই কম। রাঙামাটিতে তিন ধরনের জমিতে চাষাবাদ করা হয়। এর মধ্যে পাহাড়ি ঢালু জমিতে, দুই পাহাড়ের মধ্যখানে সমতল ভূমিতে এবং জলে ভাসা জমিতে। জলে ভাসা জমিতে চাষাবাদ অনেকটাই লটারির মত। হ্রদে পানি কমলে এসব জমিতে চাষাবাদ করা হয়, কিন্তু অনেক সময় বর্ষা আগেভাগে চলে আসলে হ্রদের পানির বৃদ্ধির কারণে কৃষকরা সময়মতো ফসল ঘরে তুলতে পারে না। আবার ঢালু জমি ও সমতল জমিতেও চাষাবাদে পানির সেচ বড় একটি প্রতিবন্ধকতা। বিভিন্ন উপায়ে এসব প্রতিবন্ধকতা কাটানোর চেষ্টা করলেও গহীন অরণ্যে সেই সুযোগ নেই বললেই চলে। তাই পাহাড়ের অনেক জায়গাতে জমি থাকলেও সেচের সুবিধার কারণে কৃষকদের জমি অনাবাদি ফেলে রাখতে হয়। প্রতিবন্ধকতা দূর করতে এই অঞ্চলে কৃষি প্রযুক্তির আরো উৎকর্ষ সাধনের প্রয়োজন রয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে কৃষি বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালকের কার্যালয়ের উপ-পরিচালক মো. নাসিম হায়দার বলেন, প্রধানমন্ত্রী ঘোষণা বাস্তবায়নে কৃষি বিভাগ খুবই আন্তরিক। যারা প্রত্যন্ত অঞ্চলের কৃষকদের সাথে কাজ করছেন, তাদেরকে আরো আন্তরিকতার সাথে নিজেদের কাজ সম্পাদন করতে হবে। যেখানে যে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে সেসব নিরসনে কৃষকদের পাশে থাকতে হবে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় পার্বত্যাঞ্চলে অনাবাদি জমির পরিমাণ কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।
