মেহেরাজ হোসেন সুজন, নানিয়ারচর ॥
সাফ জয়ী গোলরক্ষক রূপনার চাকমার একই উপজেলার আলো-বাতাসে বড় হয়ে উঠছেন চোসাউ। যার কাছে রূপনা চাকমার মতই রয়েছে ফুটবলার হওয়ার অদম্য ইচ্ছা। সেই ইচ্ছাতেই পরিবার তাকে ভর্তি করে দিয়েছিল ঘাগড়া বিদ্যালয়ে আর সেখান থেকে তার প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও জেদে ভর্তি করা হয় বিকেএসপিতে। চোসাউয়ের স্বপ্ন সেও একদিন রূপনা-ঋতুদের মত দেশের ফুটবলে আলো ছড়াবে।
রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলার বুড়িঘাট নিচে পুলিপাড়া গ্রামে বসবাস চোসাউ রোয়াজা’র। দুর্গম পাহাড়ে অভাব অনটনে কাটে চোসাউ এর পিতা চিংথোয়াই রোয়াজার সাংসারিক জীবন। তিনি পেশায় একজন জুম চাষী। আর জুমে উৎপাদিত পণ্য বাজারে বিক্রি করেই চলে তার সংসার একইসাথে নির্বাহ করতে হয় মেয়ের পড়ালেখার খরচও।
শারীরিকভাবে ফিট ও খেলায় অসম্ভব মনোযোগী হওয়াতে চোসাউকে ঘাগড়ায় ভর্তি করিয়ে দিয়েছিলেন বাবা চিংথোয়াই রোয়াজা,পরে ফুটবলকে ভালো রপ্ত করতে ঢাকায় বিকেএসপিতে ভর্তি করালেও অবাবের সংসারে দুর্বিষহ দিন পোহাতে হচ্ছে তাদের। বাবার অভাবের সংসারে মেয়েকে বিকেএসপির খরচ যোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে এখন।

ফুটবলার চোসাউ রোয়াজা বলেন, পরিবারের মধ্যে বাবার অকুণ্ঠ সমর্থন থাকলেও অর্থের অভাবে অনুশীলন ঠিকমত করা যাচ্ছে না। ভাইবোনের মধ্যে আমি দ্বিতীয়। আরো তিন বোন ও এক ভাই রয়েছে, বাবার আয়ের ওপর নির্ভরশীল আমাদের পরিবারটি। যদি সকলের সমর্থন পায়, তবে দেশের ফুটবলে আলো ছড়াতে চাই। ফুটবলে পাহাড়ের রানী হতে চাই।
ভাঙ্গাঘরে নুন আনতে পানতা ফুরাচ্ছে,অন্যদিকে সমতলের চেয়ে পাহাড়ের জীবন-জীবিকা অনেকটা ভিন্ন। প্রতিকূল পরিবেশে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত খাটুনির কমতি নেই পিতার,তবুও মেয়েকে সফলতার চুড়ায় দেখতে চান বাবা চিংথোয়াই রোয়াজা।
চোসাউ রোয়াজাকে নিয়ে মন্তব্য করে নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান প্রগতি চাকমা জানান, চোসাউ রোয়াজা নানিয়ারচরের কন্যা, আমার তা জানা ছিল না, রূপনার মত ভবিষ্যতে ভালো খেলবে চোসাউ রোয়াজা। আমার উপজেলা পরিষদ থেকে তাকে যথাসম্ভব সাহায্য করার চেষ্টা করব। এছাড়া উপজেলা ব্যাতীত প্রশাসন, জেলা, উপজেলা ক্রীড়া সংস্থা চাইলে সাহায্যের হাত বাড়ালে খেলায় তাঁর আরো উন্নতি হবে।
