জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চাকরী বাঁচাতে ৭০ কিলোমিটার পাহাড়ি পথ পায়ে হেটে যাত্রা শুরু করেছে পোশাক শ্রমিকরা। গার্মেন্টস সেক্টরের নির্ধারিত ছুটি শেষ হওয়ায় রাঙামাটি থেকে পোশাক শ্রমিকরা চট্টগ্রামের নিজ কর্মস্থলে রওয়না দিয়েছে।
শনিবার সকালে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় অবস্থানরত পোশাক শ্রমিকরা দলে দলে হেটেই যেতে দেখা গেছে। করোনা ভাইরাইসের ঝুঁকি কমাতে গত ২৬ মার্চ থেকে ১০ দিনের ছুটি ঘোষনা করে সরকার। ছুটির করানে সকল প্রকার যানচলাচল বন্ধ রয়েছে।
পোশাক শ্রমিক আব্দুল মতিন জানান, অফিস থেকে আগামীকাল (৫ এপ্রিল) মুঠোফোনে কাজে যোগদানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাই নিরুপায় হয়ে পায়ে হেটেই রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের উদ্যোশে রওয়না দিয়েছে। পথে পথে পুলিশি বাধা থাকলেও মানবিক কারনে তারাও ছেড়ে দিয়েছে।
আরেক পোশাক শ্রমিক রোকায়ে আক্তার বলেন, লংগদু থেকে মালামালের বোটে করে খুব সকালে রওয়ানা দিয়েছে। যদি আগামী কাল কর্মস্থলে যোগদান না করি তাহলে ছুটির দিনগুলোসহ অনুপস্থিতি দেখানো হবে এবং বেতন ভাতাদি পাওয়া কঠিন হবে। সেখানে আমাদের বাসা ভাড়া দোকান বাকী রয়েছে।
ঝুঁকি জেনেও আরেক পোশাক শ্রমিক নয়ন মিয়ে বলেন, করোনা ভাইরাস ছোঁয়াছে ক্ষতি হতে পারে কিন্তু যদি কাল যোগদান না করি পরে না খেয়ে থাকতে হবে। চাকরী না থাকলে বউ বাচ্চা না খেয়ে থাকবে। রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রামের দূরত্ব প্রায় ৭০ কিলোমিটার। আবার পাহাড়ি পথ। তাও কিছুই করাই নাই কঠিন পরিস্থিতি যেনেও যেতে হচ্ছে।
অন্যদিকে সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখতে শহরে জেলা প্রশাসন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নিয়মিত টহল অব্যাহত হয়েছে। শনিবার সাপ্তাহিত হাট থাকার কারনে বনরুপা বাজারে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বাড়তি একটি দল সামাজিক দূরত্ব বাজায় রাখতে সর্বক্ষনিক বাজারে অবস্থান করতে দেখা গেছে।
অপরদিকে অপ্রয়োজনে রাস্তায় মোটরসাইকে নিয়ে বের হওয়ার কারেন রাঙমাটি জেলার নির্বাহী ম্যাজেস্ট্রিট বোরহান উদ্দিন একজনকে পাঁচশত টাকা জরিমান করেছেন।
