গত ২৭ জানুয়ারি রাঙামাটি শহরে ওয়ার্ড যুবলীগের এক সাধারন সম্পাদককে কূপিয়ে ‘হত্যাচেষ্টা’র ঘটনায় দায়ের করা মামলায় মামলা হলেও কাউকে গ্রেফতার করেনি পুলিশ। এই ঘটনার পর আহত নাসিরের পর পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা না নেয়ার অভিযোগের পর গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে ঘটনার চারদিন পর ৩১ জানুয়ারি মামলা গ্রহণ করে পুলিশ। কিন্তু মামলা করার পর ৬ দিন অতিহাতি হলেও কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। অথচ অভিযুক্ত আট আসামীর সবাইকে প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াতে দেখা যাচ্ছে রাঙামাটিতে। এদের মধ্যে কেউ কেউ দলীয় কর্মসূচীতেও অংশ নিতে দেখা গেছে। আসামীরা গ্রেফতার না হলেও তাদের বিরুদ্ধে আহত নাসিরকে ‘দেখে নেয়ার হুমকি’ দেয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবারও আসামীদের কয়েকজনকে প্রকাশ্যেই রাঙামাটি শহরে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেছে।
আহত নাসির জানিয়েছেন, আমি মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছি। আমার স্ত্রী মামলা করলেও আজ এতদিন হয়ে গেলো পুলিশ কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি বরং তারা প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে এবং বলে বেড়াচ্ছে যে, তারা আমাকে দেখে নেবে।’ তিনি বলেন, ‘তারা গ্রেফতার না হওয়ায় আমি জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। গ্রেফতার ও বিচার না হলে এরা আমাকে মেরে ফেলতে পারে।’
নাসির জানান, আমি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,ওসি কোতয়ালি ও ৯৯৯ নাম্বারে ফোন করে আসামীদের গ্রেফতার করার অনুরোধ জানিয়েছি। তারা আমাকে আসামীদের গ্রেফতার করা হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো আসামীরা প্রকাশ্যেই রাঙামাটিতে ঘুরে বেড়াচ্ছে।’ আহত নাসির তার সাথে আওয়ামীলীগের সিনিয়র কোন নেতাও যোগাযোগ করেনি বলে জানিয়েছেন।
এদিকে নাসিরকে আহত করার পর তার স্ত্রী সালেহা আক্তারের দায়ের করা ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপ পুলিশ পরিদর্শক জিয়াউক হক জানিয়েছেন, ‘আমরা মামলার তদন্ত কার্যক্রম চালাচ্ছি। যেহেতু এটি দুইপক্ষের রাজনৈতিক গ্রুপিং এর ঘটনা,তাই আমরা নিশ্চিত প্রমাণ হাতে নিয়েই আসামীদের গ্রেফতার করব। আশা করছি শীঘ্রই কিছু করতে পারব।’
রাঙামাটির কোতয়ালি থানার অফিসার ইনচার্জ মীর জাহিদুল হক রনি জানিয়েছেন, নাসির আমাকে ফোন করেছে,সে কিছু বিষয় জানিয়েছে। আমরাও সবগুলো বিষয় খতিয়ে দেখছি এবং আসামীদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনী পদক্ষেপ গ্রহণ করব। একটু সময় লাগছে,কিন্তু আমরা কাজ করছি।’
প্রসঙ্গত, গত ২৭ জানুয়ারি রাঙামাটি পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক মোঃ নাসিরকে কূপিয়ে এবং পায়ের রগ কেটে গুরুতর আহত করে একদল দুষ্কৃতিকারি। এই ঘটনায় নাসির তিনজনকে সরাসরি চিনেছেন বলে জানায়। এরপর তার স্ত্রী সালেহা আক্তার বাদী হয়ে রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল জব্বার সুজনসহ ছাত্রলীগ-যুবলীগের আটজনকে আসামী করে একটি ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলা করেন। এই মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন,জেলা যুবলীগের সহসম্পাদক মিজানুর রহমান,জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সহসভাপতি ইকবাল হোসেন, পৌর যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আব্দুল ওয়াহাব খান,কলেজ ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক দীপংকর দে, কলেজ ছাত্রলীগের আজমীর হোসেন,মীর শাকিল ও ৭ নং ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারন সম্পাদক আরিফ।
