সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজেই ছুটে যান নিজের বিভিন্ন এলাকায় কোন এলাকার মানুষ কেমন আছে, তাদের কার কি প্রয়োজন তা জানার জন্য, এভাবেই ছুটে চলছেন সারাটা দিন। দিন শেষে মধ্য রাতে বাড়ি ফেরান এমন রুটিন তার প্রত্যেক দিনের। স্বাভাবিক সময়ে নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিতে পারলেও করোনায় এমন কঠিন সময়ে নিজের ব্যক্তিগত সময়টুকুও কেড়ে নিয়েছে এখন। এটি এক পৌর কাউন্সিলরের প্রতিদিনের গল্প। তিনি হচ্ছেন রাঙামাটি পৌরসভার ৩নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পুলক দে।
তরুন এই কাউন্সিলর করোনার সময়ে ব্যস্ততা বেড়েছে অনেকগুন বেশী। সকাল ঘুম থেকে উঠেই খোঁজ নিতে বেড়িয়ে পরেন এলাকায় এলাকায়। নিজ ওয়ার্ডের কোন নাগরিক কোন সমস্যায় পড়লে ছুটে যান তা নিরসনের জন্য। করোনা মোকাবিলায় সাধারন মানুষের মাঝে ত্রাণ পৌছে দেয়া, ত্রাণ না পাওয়া পরিবারের তালিকা প্রনয়ন করে তাদের খাদ্য সহায়তা প্রদান করে চলছে প্রতিদিন।
এলাকার বিভিন্ন জনের সাথে কথা বলে জানা যায় কাউন্সিলর পুলক খুব সঠিকভাবেই তালিকা প্রনয়ন করে ওয়ার্ডের অসহায় মানুষের বন্টন করেছেন। সরকারিভাবে বরাদ্দ সকল ত্রাণ চেষ্টা করছেন সঠিকভাবে বন্টনে। নিরলসভাবে স্থানীয মানুষের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন তিনি। 
স্থানীয় বাসিন্দা অপু শ্রীং লেপসা বলেন, আমাদের কাউন্সিলর দিনরাত করোনার সময় যে পরিশ্রম করছেন সাধারন মানুষের জন্য যা বলে বোঝানোর মত না। আমরা এলাকাবাসী উনার এমন কর্মকান্ডে খুবই সন্তুষ্ট। আরেক স্থানীয় বাসিন্দা হায়দার আলী বলেন, কাউন্সিলর পুলক যা করছেন, তাতে তিনি প্রশংসার দাবীদার। আমার মতে তিনি মিষ্টভাষী লোক আর এই ক্রান্তিকালে সব কিছু ভালোভাবে ব্যবস্থাপনা করছেন এবং যেকোন সমস্যা সহজে সমাধান করার চেষ্টা করেন।
তবে কাউন্সিলর পুলক দে বলেন, করোনা আমাদেরকে অনেক কিছুই শিখিয়েছে। আমাদের এলাকার প্রতিটি অসহায় মানুষকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার সচ্ছতার সাথে তুলে দেয়ার চেষ্টা করছি। সেবা করতে যখন নেমেছি তাহলে নিজের জীবনটাকেও উৎসর্গ করবো। চেষ্টা করি সব সময় নিরপেক্ষ থেকে সকলের জন্য কাজ করতে। তারপরও কাজ করতে গেলে কিছুটা ভুল হতেই পারে। যখন সাধারন মানুষের জন্য কাজ করি তখন নিজের কাছে খুব ভালো লাগে। কেউ যখন এসে বলে আপনার জন্য এটি পেয়েছি, তখন মনে যে শান্তিটা পাই সেটি বোঝানোর ভাষা নাই।
