করোনা মোবাবিলায় দেশ জুড়ে চলছে লকডাউন। এমন লকডাউনে আয়ের পথ বন্ধ হওয়ায় বিপাকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রণির শ্রমজীবী মানুষরা। সীমাহীন কস্টে দিন পার করছে তারা। গতবছর সাধারন ছুটির সময় সরকার ও বিভিন্ন সংগঠন এবং সচ্ছল ব্যক্তিরা সহায়তার ব্যবস্থা করেছিল যার ফলে কিছুটা কস্ট লাগব হয়েছিল।
এবারের লকডাউনে যেমন কর্মহীন হয়ে পড়েছে তেমন কোনধরণের সাহায্য না পাওয়ায় কস্টের মাত্রা বেড়ে গেছে আরো কয়েকগুন। অনেকে ধার দেনা করেও সংসারের সকলের খাবার যোগাড় করতে হিমশিম খাচ্ছে। সন্তানদের শখের কিছ্ পুরণ করা অনেকটা দু:স্বপ্নের মত এ সময়ে। অনেক সময় বিভিন্ন সংগঠন থেকে লোন নিতে পারলেও এখন তাও পারছেন না।
পাশাপাশি কারো কাছ থেকে ধার চাইলেও ধার পাওয়া যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে অনেকটা মানবেতর জীবন অতিবাহিত করছে শ্রমজীবী মানুষরা। সরকারি সহায়তা বা কাজ করার সুযোগ দেবার আহাবানও জানান তারা। অটোরিক্সা চালক মো: বেলাল বলেন, গাড়ি চালিয়েই সংসার চালাতম আজ অনেকদিন গাড়ি চালাতে পারছি না জমানো কোন টাকাও নাই। কতটা কস্টে দিন পার করছি তা বলে বুঝাতে পারবো না।
মিস্ত্রী আবুল মোতালেব বলেন, লকডাউনের কারনে আগের মত কাজ নাই বেকার বসে আছি। খেয়ে না খেয়ে দিন পার করছি। সরকার বা বড়লোকরা যদি সহায়তা করতো তাও কিছুটা ভালো হতো।
ট্রাক চালক বশির মিয়া বলেন, গাড়ি নিয়ে ভাড়াতে গেলে চলতে পারি এখন সেটিও বন্ধ। পরিবার নিয়ে খুবই কস্টে আছি। জানি না এ কস্ট কবে শেষ হবে?
মালামাল পরিবহন শ্রমিক মো: হোসেন বলেন, আমাদের খবর কে রাখে? কেউ খবর রাখে না। গরিব হয়ে জন্ম নেয়াটা মনে হয় পাপ।
রাঙামাটি একতা শ্রমিক কল্যাণ সমিতির সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল মোস্তফা বলেন, গাড়ি , লঞ্চ দোকানপাট বন্ধ শ্রমিকরা কোন কাজ করতে পারছে না। শ্রমিকরা এই লকডাউনে খুবই কস্টে আছে। আমাদের শ্রমিকদের কোথাও থেকে কেউ সহযোগীতা করছে না। আমাদের সমিতির অল্প টাকা দিয়ে চেষ্টা করেছি শ্রমিকদের কিছু দিতে কিন্তু তা দিয়ে এ কস্ট লাগব করা সম্ভব নয়।
