সাইফুল হাসান ॥
ডা: অভীক চাকমার বিরুদ্ধে অবৈধভাবে ভাড়া দোকান থেকে উচ্ছেদের ষড়যন্ত্র, সন্ত্রাসী হামলা ও মালামাল লুটের অভিযোগ এনেছেন ভুক্তভোগী এক পরিবার। শহরের ভেদভেদী মুসলিম পাড়ার বাসিন্দা ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার এক সংবাদ সম্মেলনে এই অভিযোগ করেন। শনিবার সকালে শহরের বনরূপাস্থ একটি অফিসে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী তাসলিমা আক্তার জানান, ‘আমার স্বামী নুর হোসেন ডা: অভীক চাকমার পিতা অমলেশ চাকমা হতে ২০১৪ সালের মে মাসের ৬ তারিখ মৌখিক চুক্তিতে কলেজ গেইট এলাকাস্থ মোটেল জজ’র বিপরীত পাশের্^ তার নিজস্ব খালি জায়গায় মাসিক ২,৫০০ টাকা ভাড়া এবং দোকার নির্মাণের যাবতীয় খরচ জামানত হিসেবে রক্ষিত থাকবে মর্মে একটি হোটেল এন্ড রেস্টুরেন্ট দোকান ভাড়া নিয়ে চালু করেন। পরবর্তীতে অমলেশ চাকমা মৃতুবরণ করলে তার ছেলে ডা: অভীক চাকমাকে আমরা ভাড়া দিয়ে আসছিলাম দীর্ঘদিন যাবত। কিন্তু গত ২০২১ সালের ২৫ জুন ডা: অভীক চাকমা আমাদেরকে দোকান ভাড়া চুক্তি শেষ হওয়ার মর্মে দোকান ছেড়ে দিতে একটি লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করেন। আমরা সে নোটিশ মোতাবেক তাকে দোকান নির্মাণ করে নেওয়ার সময় যে অর্থ তার পিতার সম্মতিতে খরচ করে জামানত হিসেবে রক্ষিত থাকবে কথা ছিলো তা ফেরত চায় কিন্তু তিনি আমাদেরকে সে অর্থ ফেরত দিবে না বলে জানান। তাই আমার স্বামী নুর হোসেন বিদেশ অবস্থান করায় তার পরামর্শে আমি বাদি হয়ে দোকান নির্মাণের সময় ব্যয় করা অর্থ ও ক্ষতিপূরর্ণ দাবি করে রাঙামাটি কোটে একটি মামলা করি।’
এ ভুক্তভোগী আরও জানান, ‘কোর্টে মামলা চলাকালিন সময় ডা: অভীক চাকমার নিদের্শে কলেজে গেইটের কিছু নেতার উপস্থিতি ও সহযোগিতায় গত ৪ নভেম্বর বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টায় তারা আমার দোকান ভাঙচুর করে লুটপাট করেন। হোটেলের যাবতীয় সকল আসবাবপত্র ও মালামাল তারা লুট করে নিয়ে যায় এবং দোকান ভেঙে ফেলে। বর্তমানে দোকানের ফ্লোর ব্যাতিত চিহ্ন বলতে কোন কিছু নেই। দোকানের আসবাবপত্র ও যাবতিয় জিনিসপত্র মিলে প্রায় ৭ লক্ষ টাকার জিনিস তারা লুট করে নিয়ে যায়। ঘটনা চলাকালিন সময়ে আমার দোকানের উপ-ভাড়াটিয়া সুমন আমাকে ফোন করে জানালে আমি সে বিষয়ে থানায় একটি জিডি করতে যায়। তাসলিমা জানান, আমার উপভাড়াটিয়া সুমনের ভাষ্যমতে রাতে হামলার সময় সাবেক কাউন্সিলর বিল্লাল হোসনে টিটু, স্থানীয় সন্ত্রাসী নামে পরিচিত মোকাররম, স্বপন, মনিরসহ আরও অনেকে উপস্থিত ছিলো। মূলত ডা: অভীক চাকমা এ সন্ত্রাসীদেরকে ভাড়া করে আমার দোকান ভাঙচুর ও লুটপাট করেন।
ভুক্তভোগী এ নারী তার ক্ষতিপূরণ দাবি জানিয়ে বলেন, আমি মহামান্য আদালতের কাছে স্বরাপন্ন হয়েছি। আমি চাই ডা: অভীক চাকমার পিতা হতে আমার স্বামী যে মর্মে দোকান ভাড়া নিয়েছিলো তিনি যেনো আমাকে সে অর্থ ফেরত দেন এবং হামলা করে যে ক্ষতিসাধন তারা করেছে তার ক্ষতিপূরণ যেন আমাকে প্রদান করেন।
সংবাদ সম্মেলনে তাসলিমা আক্তার’র বোন জামাই আব্দুল শুক্কুরসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
