খাগড়াছড়ির একমাত্র কোভিড-১৯ রোগী এরশাদ চাকমার নমুনা রিপোর্ট দ্বিতীয়বারের মত নেগেটিভ এসেছে। পরপর দু‘বার নমুনা নেগেটিভ আসায় এই মুহুর্তে খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা করোনামুক্ত। খাগড়াছড়ি সিভিল সার্জন ডা. নুপুর কান্তি দাশ এ কথা জানান।
তিনি জানান, খাগড়াছড়ি জেলায় ৮ মে পর্যন্ত একজন ব্যক্তির করোনা পজেটিভ ছিল। কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তির দ্বিতীয় ও তৃতীয় নমুনার ফলাফল নেগেটিভ আসায় সে এখন করোনামুক্ত। আর খাগড়াছড়ি জেলায় এখন আর কেউ করোনা পজেটিভ নেই।
সুস্থ হয়ে উঠা দীঘিনালা উপজেলার কামুক্কাছড়া গ্রামের বাসিন্দা এরশাদ চাকমাকে ২১দিন পর শনিবার সকালে আইসোলেশন থেকে ফুলেল শুভেচ্ছায় ছাড় দেয়া হয়। এসময় দীঘিনালা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. তনয় তালুকদার, ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান চয়ন বিকাশ চাকমা ও প্রজ্ঞান জ্যোতি চাকমা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য যে, নারায়নগঞ্জের আদমজি ইউপিজেড এলাকা থেকে ঐ গার্মেন্টসকর্মী স্বস্ত্রীক ১৮ এপ্রিল খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় এসেছিলেন। সেখানে কামুক্কাছড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টিনে থাকা অবস্থায় গত ২২ এপ্রিল চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে অবস্থিত বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি) এ পাঠানো প্রথম নমুনার রিপোর্ট ২৯এপ্রিল পজেটিভ এসেছিলো। তখন ১মে তাদের (স্বামি ও স্ত্রী) বাসটার্মিনাল সংলগ্ন হোটেল ইউনিটিতে আইসোলেশনে রাখা হয়।
এরপর পাঠনো দ্বিতীয় নমুনা পরীক্ষা রিপোর্ট ৩মে নেগেটিভ আসে। সর্বশেষ পাঠানো তৃতীয় নমুনা পরীক্ষার রিপোর্টও শুক্রবার রাতে নেগেটিভ আসে। এরশাদ চাকমার সাথে থাকা তার স্ত্রী পূর্না চাকমার রিপোর্টও দুইবারই নেগেটিভ আসে। এমনকি প্রথম সময়ে কামুক্কছড়া সারকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে থাকাকালিন সময়ে পাশাপাশি থাকা অপর ১৪জনেরও রিপোর্ট নেগেটিভ আসে। শনিবার সকালে আনুষ্ঠানিকভাবে এরশাদ চাকমাকে ছাড়পত্র দিয়ে আইসোলেশন থেকে বিদায় দেওয়া হয়।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, খাগড়াছড়িতে শুক্রবার পর্যন্ত ২৮৫ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। তারমধ্যে ১জনের পজেটিভ এবং ১৬০ জনের নেগেটিভ আসলেও বাকিদের নমুনার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি।
