সকালে ফরেস্ট অফিস গেইটে সন্ধ্যায় বনরূপায় দেখা মেলে ভ্যানে করে বিক্রি করছে আমড়া এবং পেঁয়ারা। যখন দেখা যাবে তখনই ভিড় লেগে থাকে ভ্যানের সামনে।
জীবন যুদ্ধে বিজয়ী হবার হাতিয়ার হিসেবে পছন্দ করে নিয়েছেন এ পেশাকে। তার পুরো নাম মিজানুর রহমান সবাই তাকে মিজান নামেই ডাকে। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত বনরূপাতেই আমড়া আর পেঁয়ারা বিক্রি করে মিজান।
সন্ধ্যায় বনরূপায় গিয়ে দেখা মিলল মিজানের পেঁয়ারা কেজিতে বা কেটে মরিচ লবণ মিশিয়ে বিক্রি করতে ব্যস্ত, আছে অনেক গ্রাহকও। কেউ বাসায় নিয়ে যাচ্ছে আমড়া আর পেঁয়ারা আবার অনেকে তার ভ্যানের পাশেই দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে খাচ্ছে। ৫-১০ টাকার মধ্যে পাওয়া যায় একটি আমড়া বা পেঁয়ারা। প্রতিদিন ১২০০-১৫০০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হয়। আনেক সময় আবার দুই হাজারও হয়। এতে তিনশত থেকে পাঁচশত টাকা লাভ হয়।
এক ছেলে, এক মেয়ে ও স্ত্রী তার পৃথিবী। বনরূপায় একটি ছোট ভাড়া বাসায় থাকেন। মেয়ে প্রাইমারিতে পড়ে আর ছেলে আগামী বছর ভর্তি করাবে স্কুলে। সুখের সংসার তার চাওয়া পাওয়া নিয়ে কোন হতাশা নাই যা পায় তা দিয়েই খুব ভালোই চলে সংসার। আমড়া আর পেঁয়ারা বিক্রি করে যে লাভ হয় তা দিয়েই চলে যায় সংসার। সব সময় হাসিমুখেই থাকে সবার সাথে হাসি মুখেই কথা বলে তার ব্যবসা করে।
পুলক বড়ুয়া আমড়া ক্রেতা বলেন, এই লোকটির ব্যবহার খুবই ভালো। অনেকদিন ধরেই দেখছি বনরূপায় আমড়া আর পেঁয়ারা বিক্রি করে। তার আমড়া ও পেঁয়ারা বেশ ফ্রেস।
আরেক স্থানীয় আবুল কালাম আকাশ বলেন, কারো সাথে কখনও উঁচু গলায় কথা বলতে দেখি নাই সব সময় হাসিমুখ নিয়েই থাকে। তার ফলগুলোও খুব ভাল।
মিজান বলেন, জীবন নিয়ে আমার কোন দুঃখ নাই যা পাই তা দিয়ে খুব ভালই চলে সংসার। ভিন্ন আর কোন পেশার সাথে আমি মানিয়ে নিতে পারি না তাই সকালে ফরেস্ট গেইট স্কুলের পাশে স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের কাছে আর সন্ধ্যায় বনরূপার বিএম মার্কেটের পাশে বিক্রি। চেষ্টা করি হাসিমুখে সবার সাথে মিলেমিশে ব্যবসা করতে।
