নতুন কাঠামোয় বেতন- ভাতা প্রদানের দাবি মেনে নেওয়ায় কেপিএমের আন্দোলনরত শ্রমিকরা অবরোধ তুলে নিয়েছে মঙ্গলবার রাতে। তবে অর্থ সংকট থাকায় নতুন কাঠামোয় বেতন দু’ভাগে দেওয়া হবে। নতুন স্কেলে যার যতই বেতন আসুক না কেন ২৪ জানুয়ারি ১৭ হাজার টাকা এবং বেতনের বাকি টাকা ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। কাপ্তাই থানা প্রশাসন, শ্রমিক নেতৃবৃন্দ ও কেপিএম কর্তৃপক্ষ যৌথভাবে এই সিদ্ধান্ত নেয়।
গত মঙ্গলবার দুপুর থেকে রাত অবধি অবরুদ্ধ থাকার পর কেপিএমের এমডি বর্তমানে মিলে অর্থ সংকট থাকায় দু’ভাগে নতুন স্কেলে বেতন দেওয়ার সিদ্ধান্ত জানায়। এ সময় কাপ্তাই থানার ওসি সৈয়দ মোহাম্মদ নুর,এমপ্লয়ীজ ইউনিয়নের সাবেক সাঃ সম্পাদক আইয়ুব খান, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বাচ্চুসহ কয়েকশ শ্রমিক উপস্থিত ছিলেন। ওইদিন রাত প্রায় সাড়ে ৯টার সময় থানা প্রশাসন ও শ্রমিক নেতৃবৃন্দ এমডি অফিস থেকে বের হয়ে আন্দোলনরত শ্রমিকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য রাখেন।
কাপ্তাই থানার ওসি নুর তার বক্তব্যের প্রথমেই আন্দোলনরত শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, তিনমাস ধরে শ্রমিকরা বেতন-ভাতা পাচ্ছে না। এটা অত্যন্ত অমানবিক। তাদের দাবি যৌক্তিক। কিন্তু এতো কষ্টে থাকার পর আন্দোলন করলেও তারা আইন-শৃঙ্খলা অবনতি হয় এমন কোন কাজ করেনি। এর জন্য তিনি শ্রমিকদের ধন্যবাদ জানান। ইউপি চেয়ারম্যান আনোয়ারুল ইসলাম চৌধুরী বেবী বলেন, দীর্ঘদিন বেতন না পেয়েও শ্রমিকরা নিয়মিত মিলের উৎপাদন দিয়ে গেছে। শ্রমিকদের বেতন আটকিয়ে রাখা অমানবিক কাজ হয়েছে। সিবিএ ও নন-সিবিএ’র শ্রমিক নেতা আইয়ুব খান ও আনোয়ার হোসেন বাচ্চু দাবি মেনে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন, আগামীতে সব ধরনের দাবি-দাওয়ার ব্যাপারে সকল শ্রমিক সংগঠনসহ শ্রমিকদের সাথে নিয়েই একযোগে কাজ করা হবে।
উল্লেখ্য, পে- স্কেল বাস্তবায়নের প্রায় ৪ বছর পর মজুরি স্কেল ঘোষণা করা হয়। সে অনুযায়ী কেপিএমের শ্রমিকদের সকল হিসাব-নিকাশও করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী শ্রমিকদের নতুন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার জন্য শ্রমিক প্রতিনিধিরা এমডি’র সাথে কথা বলেন চলতি মাসের প্রথম দিকে। কিন্তু এমডি নতুন স্কেলে বেতন নিতে হলে কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে বলে তাদের জানায়। কিন্তু গত মঙ্গলবার শ্রমিক নেতৃবৃন্দ জানতে পারেন পুরাতন কাঠামোয় বেতন দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। তখনই মিলের শ্রমিক-কর্মচারী পরিষদ (সিবিএ), নন- সিবিএ ওয়ার্কার্স ইউনিয়ন ও এমপ্লয়ীজ ইউনিয়ন নেতৃবৃন্দ যৌথভাবে এমডি অফিস ঘেরাও করে অবরোধ শুরু করেন। এসময় ৩/৪ শ’ শ্রমিক, কর্মচারী কেপিএম মেইন অফিসে উঠে এমডি ডঃ এম এম এ কাদেরকে অবরুদ্ধ করে রাখে। শ্রমিকদের নভেম্বর ২০১৮ মাস থেকে বেতন বন্ধ রয়েছে।
