পাহাড়ের হারিয়ে যাওয়া পাখি রক্ষা এবং পাখি শিকার বন্ধে ‘বনের পাখি থাকুক বনে-নিরাপদে’ এই শ্লোগানে নিজেদের তোলা পাখির ছবি এক বিরল প্রদর্শনীর আয়োজন করেছে খাগড়াছড়ির দুই তরুণ। খাগড়াছড়ির পর আজ ও কাল পার্বত্য শহর রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে তাদের এই পাখি প্রদর্শনী।
পাহাড়ের পাখি রক্ষায় খাগড়াছড়ির পর এবার রাঙামাটিতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে ‘সেভ দ্য বার্ডস অব হিল’ শীর্ষক ছবি প্রদর্শনীতে থাকবে প্রায় ৪২ প্রজাতি পাখির আলোকচিত্র । দুই তরুণ আলোকচিত্রী সমির মল্লিক ও সবুজ চাকমার তোলা পাহাড়ের বিপন্ন কয়েক প্রজাতির পাখিসহ প্রায় ৪২টি পাখি এই প্রদর্শনীতে স্থান পাবে।
শুক্রবার বিকেল ৪ টায় রাঙামাটি শহরের ‘গরবা রেস্টুরেন্ট এন্ড আর্ট গ্যালারি’তে এ ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়েছে। প্রদর্শনী চলবে রাত ৮ টা পর্যন্ত। প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবে রাঙামাটির জেলা প্রশাসক কে এম মামুনুর রশীদ। এছাড়া অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবে প্রকৃতি বিষয়ক তরুণ লেখক মোকারম হোসেন। রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের ঠিক পাশেই জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বিভাগের অফিসার সামনে অবস্থিত গরবা আর্ট গ্যালারিতে দুইদিনের এই পাখি প্রদর্শনীতে সবাইকে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দুই তরুণ আলোকচিত্রী সমীর মল্লিক ও সবুজ চাকমা।
প্রদর্শনী প্রসঙ্গে আলোকচিত্রী সবুজ চাকমা জানান, সবুজ বনানী ও উপত্যকা ঘেরা অনিন্দ্য সৌন্দর্য্যের লীলাভূমি পার্বত্য চট্টগ্রাম। নানা প্রজাতির পশু পাখির নিশ্চিন্ত আবাসভূমি ছিল পাহাড়। দিগন্ত ব্যাপী পাহাড়ের ভাঁজগুলো ও উচ্ছ্বসিত হতো পাখিদের কলতানে। যে সবুজ অরণ্য ছিল পাখিদের অভয়ারণ্য, আজ শিকারীদের দৌরাত্ম্যে হারিয়ে যাচ্ছে পাখিদের সংসার।
পাহাড় উজাড় করে বিরানভূমি গড়ে উঠছে। এখানে সবুজের হাতছানি আর মায়ায় জড়ায় না। এখানে পাখিদের রঙ আর শব্দ দৃষ্টি কেড়ে নেয় না। ইতোমধ্যে বিলুপ্তির পথে বেশ কয়েক প্রজাতির পাখি। পার্বত্য চট্টগ্রাম হোক পাখির নিশ্চিন্ত আশ্রয়।
