রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে উপজেলা পরিষদ ভবনে ইউপি সদস্য ও রাজনৈতিক কর্মীকে গুলি করে হত্যার ঘটনাকে ‘প্রশাসনের নাকের ডগায়’ মন্তব্য করে একে ‘উদ্বেগজনক’ বলে মন্তব্য করেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)। এই হত্যাকান্ডের জন্য জনসংহতি সমিতির সভাপতি সন্তু লারমা, সাবেক সংসদ সদ্য উষাতন তালুকদার, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান বড়ঋষি চাকমা এবং জনৈক মনিময় চাকমাকে দায়ী করেছে সংগঠনটি।
সংগঠনটির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক জোসি চাকমা গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে হত্যাকান্ডের ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছেন-‘হত্যাকারি দুর্বৃত্তসহ তাদের লেলিয়ে দেয়া গডফাদার বড় ঋষি চাকমা,সন্তু লারমা,উষাতন তালুকদারকে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।’
বিবৃতিতে জোসি বলেন, প্রশাসনিক কাজে সমর বিজয় চাকমা পিআইও অফিসে অবস্থান করছিলেন। এমন সময় মনিময় চাকমার নেতৃত্বে সন্তু লারমা দলের ২/৩ জন অস্ত্রধারি সন্ত্রাসী এসে ব্রাশফায়ার করলে সমর বিজয় চাকমা ঘটনাস্থলেই নিহত হয়।’
বিকাল বিকাল ৩.১০ মিনিটে ইমেইলে পাঠানো এই বিবৃতিতে জোসি চাকমা নিহত সমর বিজয় চাকমাকে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র থানা কমিটির ছাত্র বিষয়ক সম্পাদক বলে জানিয়েছেন।
এর আগে সংগঠনটির মুখপাত্র জুপিটার চাকমা এই হত্যাকান্ডটি জনসংহতি সমিতির সশস্ত্র ক্যাডার মনিময় চাকমার নেতৃত্বেই সংঘটিত হয়েছে বলে দাবি করেছেন।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলা চেয়ারম্যান ও জনসংহতি সমিতি (এমএনলারমা)’র কেন্দ্রীয় কমিটির আইন বিষয়ক সম্পাদক সুদর্শন চাকমা এই হত্যাকান্ডের জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করে তাদের গ্রেফতার ও বিচার দাবি করেছেন।
তবে জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র এই দাবি সম্পর্কে কথা বলার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতির কোন কেন্দ্রীয় নেতার সাথেই কথা বলা সম্ভব হয়নি। কিন্তু সংগঠনটির বাঘাইছড়ি উপজেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক ত্রিদিপ চাকমা দাবি করেছেন, তাদের কোন সশস্ত্র শাখা বা কর্মী নেই। পার্বত্য চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য গনতান্ত্রিক আন্দোলন করছে তারা। নিহত সমর বিজয় চাকমা তার নিজ দলের আভ্যন্তরীণ কোন্দলে নিহত হয়েছেন বলেও দাবি করেছেন তিনি।
প্রসঙ্গত, ২০০৯ সালে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি থেকে বেরিয়ে গিয়ে সুধাসিন্ধু খীসা-তাতিন্দ্রলাল চাকমা পেলে এবং রূপায়ন দেওয়ানের নেতৃত্বে একই নামে পৃথক আরেকটি দল গঠিত হয়। ‘সংস্কারপন্থী’ হিসেবে পরিচিতি পাওয়া দলটির নামের সাথে ব্র্যাকেটবন্দী করা হয় ‘এমএনলারমা’ শব্দটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে গত ১২ বছরে দুই দলের পাল্টাপাল্টি হামলায় অন্তত শতাধিক নেতাকর্মী নিহত হয়,যাদের বেশিরভাগই জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)’র। এদের মধ্যে রয়েছেন নানিয়ারচর উপজেলা চেয়ারম্যান শক্তিমান চাকমা,সুদীর্ঘ চাকমা’র মতো গুরুত্বপূর্ণ নেতাও।
বুধবার দুপুরে বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদ ভবনের উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুনবী সরকারের অফিস কক্ষে বসে আলাপ করার সময় এক দল দুর্বৃত্ত এসে বুকে গুলি ঠেকিয়ে হত্যা করে সমর বিজয় চাকমাকে,যিনি জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র রাজনীতি করার পাশাপাশি উপজেলার রূপকারি ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
