আরমান মান, লংগদু ॥
‘পার্বত্য অঞ্চলের আনাবাদি জমিগুলো চাষাবাদের আওতায় আনতে পারলে এখানে কৃষির বিপ্লব ঘটবে। ইতোমধ্যে পাহাড়ের অনেক এলাকা নিজস্ব কৃষি পণ্যের জন্য বিখ্যাত হয়েছে। যেমন সাজেকের কমলা, নানিয়ারচরের আনারস, খাগড়াছড়ির হলুদ। কাপ্তাই হ্রদে ঘেরা আমাদের লংগদু উপজেলায় কৃষির যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। আমরা চাইলে এই এলাকাকে ফুলে ফলে ভরিয়ে তুলতে পারি। কিছু এলাকায় সরিষা, সূর্যমূখি ফুল এবং ভূট্টার চাষাবাদ শুরু হয়েছে। এসব ফসলের চাহিদা ও বাজার দর ভালো হওয়ায় এগুলো চাষাবাদ হচ্ছে। কৃষকরা চাইলে লংগদু উপজেলাকে সরিষা ও সূর্যমূখীর হলুদ রঙে রাঙিয়ে তুলতে পারেন। এখানকার উৎপাদিত সরিষা এবং সূর্যমূখী তেল লংগদুর নামে পরিচিত হবে। তখন এই এলাকার নাম সারা দেশে ছড়িয়ে যাবে এবং পাশাপাশি কৃষকের আর্থিক উন্নয়ন ঘটবে। লংগদুতেও ব্রান্ডিং কৃষিপন্য উৎপাদনের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।’ বুধবার সকালে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরন অনুষ্ঠানে একথা বলেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাইনুল আবেদীন।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে কৃষি প্রণোদনা কর্মসূচীর আওতায় ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বীজ ও রাসায়নিক সার বিতরণ অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকার, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা জাহিদুল ইসলাম প্রমূখ।
এ বিষয়ে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহকারী উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা রতন চৌধুরী জানান, উপজেলার মোট সাতটি ইউনিয়নের ১২০ জন ভূট্টা চাষিকে দুই কেজি ভূট্টার বীজ, দশ কেজি এমওপি সার, বিশ কেজি ডিএপি সার এবং ৪০ জন সরিষা চাষিকে এক কেজি সরিষা বীজ, দশ কেজি এমওপি সার ও দশ কেজি ডিএপি সার প্রদান করা হয়। এ বছর অত্র উপজেলায় মোট ৩৪ হেক্টর জমিতে সরিষা এবং ৮০ হেক্টর জমিতে ভূট্টা চাষের লক্ষমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
