নিজস্ব প্রতিবেদক ॥
রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদাম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে ঘিরে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মনোনিত প্রার্থীর অফিস ভাঙচুরের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ সময়ে বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ছবিও ভাঙচুর করা হয়। শুক্রবার মধ্যরাতে রাঙামাটির লংগদু উপজেলার ভাসান্যাদম ইউনিয়নে এই ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইউনিয়ন চেয়ারম্যান প্রার্থী মো. ইসমাইল হোসেন। আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি ৭ম ধাপে এই ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
স্থানীয়রা জানান, ভাসান্যাদম ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন চেয়েছিলেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হযরত আলী ও সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইলকে দলীয়ভাবে মনোনয়ন দেয়া হলেও বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হযরত আলী।
নৌকার প্রার্থী ও ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ইসমাইল হোসেন অভিযোগ করে বলেন, গতকাল(শুক্রবার) রাতে দলীয় নেতাকর্মীরা দলীয় কাজ শেষ বাড়ি ফিরে যায়। শনিবার সকালে দলীয় অফিস খুলতে গেলে এসব কান্ড দেখে পুলিশ এবং উপজেলার নেতৃবৃন্দদের খবর দেয়া হয়। তারাও বিষয়টি দেখেছেন। তিনি আরও বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী নামে দলীয় শৃঙ্খলা না মেনে যিনি নির্বাচন করছেন এটি তার লোকজনের কাজ। হযরত আলী এই অপকর্মের নাটের গুরু।
তবে বিদ্রোহী প্রার্থী ও ভাসান্যাদম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হযরত আলী অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমাকে বিপাকে ফেলতে ও নির্বাচনের পরিবেশ নষ্টের জন্য তারা নিজেরাই এমন ঘটনা ঘটিয়ে আমার ওপর দোষ চাপানোর চেষ্টা করছে।
উপজেলা আওয়ামীলীহের সাধারণ সম্পাদক বাবুল দাশ বাবু বলেন, আমরা সকালে বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। সেখানে আমাদের প্রার্থীর অফিস ভেঙ্গেছে, পোস্টার ব্যানার ছিড়েছে, এতেই তারা নিবৃত্ত হয়নি, অফিসে রাখা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবিও ভেঙ্গেছে। এ বিষয়ে আমরা লংগদু থানা, রিটানিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, এই ঘটনাটি আমরা জেলা অওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদকেও অবহিত করেছি। এছাড়া দলের বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে একটি তালিকা জেলায় প্রেরণ করা হয়েছে। বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দ্রুতই ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জেলা সাধারণ সম্পাদক জানিয়েছেন।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আরিফুল আমিন বলেন, আমি ঘটনা শুনেই ঘটনাস্থলে যায়। উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। ঘটনা তদন্তে পুলিশ কাজ করছে।
