সুহৃদ সুপান্থ
যদিও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আনুষ্ঠানিকভাবে অংশ নেয়নি দেশের অন্যতম রাজনৈতিক দল বিএনপি,কিন্তু পার্বত্য রাঙামাটিতে সপ্তম দফার নির্বাচনে লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার ছয় ইউনিয়নে অংশ নিচ্ছেন দলটির অন্তত ৮ জন নেতা। কেন্দ্রীয় নেতারা বিষয়টিকে ‘দু:খজনক’ এবং ‘ঠিক হয়নি’ বললেও জেলা নেতারা বলছেন, ‘এটা বড় কোন অপরাধ নয়’।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ইউপি নির্বাচনে লংগদু উপজেলার সাতটি ইউনিয়েনের পাঁচটিতেই অংশ নিচ্ছে বিএনপির প্রার্থীরা ‘স্বতন্ত্র’ পরিচয়ে। শুধু অংশগ্রহণই নয়, কোন কোন ইউনিয়নের দলটির একাধিক নেতা পরস্পরের প্রতিদ্বন্দ্বি হিসেবে মাঠে নেমেছেন। অর্থাৎ এমন বৈরি পরিবেশে স্বতন্ত্র পরিচয়ের নির্বাচনেও সবখানে একক প্রার্থী হতে পারেনি দলটির নেতারা।
উপজেলার ভাসাইন্যাদাম ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আব্দুল জলিল, লংগদু ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সদস্য জহুর আলী মিলন, কালাপাকুইজ্যা ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সাবেক সেক্রেটারি ওবর্তমান কমিটির সিনিয়র সদস্য আব্দুল বারেক দেওয়ান, বগাচত্বর ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি আব্দুল গাফফার খান ও সাধারন সম্পাদক জামাল হোসেন।গুলশাখালি ইউনিয়নে প্রার্থী হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহসভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান আবু নাসির এবং ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মিলন মেম্বার। পাঁচটি ইউনিয়নের মধ্যে গুলশাখালি এবং বগাচত্বরে দলটির প্রার্থীদের সম্ভাবনাও ছিলো,যদি একাধিক প্রার্থী না থাকত। এখন শুধুই কালাপাকুইজ্যা ইউনিয়নে ন্যুনতম সম্ভাবনা আছে দলটির।
অন্যদিকে বাঘাইছড়ি উপজেলার আমতলী ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন রাঙামাটির সরকারি কলেজ ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোঃ আল আমিন।
লংগদু উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান তোফাজ্জ্বল হোসেন বলছেন-‘আমাদের দলীয় গ্রুপিং এর কারণে দুটি ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী রয়েছে,এটা সমাধানের চেষ্টা করেছি কিন্তু হয়নি। তবে দুই থেকে তিনটি ইউনিয়নে আমাদের জয়ের সম্ভাবনা আছে,যদি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হয়।’
জাতীয়ভাবে বর্জন করা নির্বাচনে দলটির দুটি উপজেলায় আটজন নির্বাচন করছেন, এমন খবরে বিস্ময় প্রকাশ করে কেন্দ্রীয় বিএনপির বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাহবুবের রহমান শামীম বলছেন-‘আমরা এই ভোটচোর সরকারের অধীনে কোন নির্বাচনেই অংশ নিচ্ছিনা। আমাদের প্রকৃত নেতাকর্মীরাতো অংশ নেয়ার কথা নয়। যারা অংশ নিচ্ছেন তাদের বিরুদ্ধে কি পদক্ষেপ নেয়া হবে সেটা জেলা বিএনপি দেখবে,তারা আমাদের সাথেও পরামর্শ করতে পারে। এই নির্বাচনে অংশ নেয়া উচিত হয়নি এবং বিষয়টি দু:খজনক।’
এই বিষয়ে রাঙামাটি জেলা বিএনপির সাধারন সম্পাদক দীপন তালুকদার দীপু বলছেন-‘ ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে আমাদেরকে বিশেষ কোন পরামর্শ বা নির্দেশনা দেয়া হয়নি। শুধু বলা হয়েছে,যে কেউই চাইলে স্বতন্ত্র পরিচয়ে নির্বাচন করতে পারবে,দলীয় পরিচয় কিংবা প্রতীক ব্যবহার করার সুযোগ নেই।’ কিন্তু জাতীয়ভাবে নির্বাচন বর্জন করার পর স্থানীয়ভাবে অংশ নেয়াটা ‘স্ববিরোধীতা’ কিনা জানতে চাইলে দীপু বলেন-‘ আসলে আমরা বিষয়টি এভাবে ভাবিনি।’ তবে যেহেতু তারা স্বতন্ত্র পরিচয়ে ও দলীয় প্রতীক ছাড়া অংশ নিচ্ছেন,তাই ‘এটা বড় কোন অপরাধ নয়।’
