সম্প্রতি ইলেকট্রনিক্স ও অনলাইন মিডিয়ায় ‘বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি’ রাঙামাটি সদর উপজেলা শাখাকে জড়িয়ে প্রধান শিক্ষকদের চাকুরি স্থায়ীকরণ বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ার প্রেক্ষিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি রাঙামাটি জেলা শাখা।
বুধবার রাঙামাটি প্রেস ক্লাব সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পড়েন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতি রাঙামাটি জেলা শাখার সভাপতি সবিনয় দেওয়ান। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির জেলা সভাপতি তপন চাকমা, সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন, সদর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নজির আহমেদ তালুকদার, সহ সভাপতি মোহাম্মদ হাসান উদ্দিন, সদস্য প্রিয়রঞ্জন চাকমা প্রমুখ।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য বলা হয়, ‘একজন সরকারি কর্মচারী সরকারি চাকুরিতে প্রবেশের সূচনা লগ্নে তিনি তার মেডিকেল সার্টিফিকেট প্রদান করে চাকুরিতে যোগদান করেন এবং অনতিবিলম্বে পুলিশ ভেরিফিকেশন ফরম পূরণ করে থাকেন যা পুলিশ বিভাগ কর্তৃক গোপনীয়ভাবে তদন্ত কার্য সম্পাদন করে কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। প্রধান শিক্ষকগণও ঠিক সে রকম কার্য সম্পাদন পূর্বক চাকুরীতে যোগদান করি। সরকারি চাকুরীজীবি হিসেবে এযাবত যা জেনে এসেছি সন্তোষজনক তিন বছর চাকুরী কাল অতিক্রম হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে চাকুরি স্থায়ী হয়ে যায়। সেই নিয়ম মোতাবেক আমদের চাকুরি স্থায়ী হয়েছে এটাই ছিল আমাদের ধারণা। সম্ভবত (২০১৪/২০১৫) রাঙামাটি জেলায় জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার হিসেবে বদলি হয়ে আসেন আবু জাফর সালেহ। তিনিই প্রথম ধারণা দেন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে হবে।
তবে চাকুরী স্থায়ীকরণ করতে তিনি যে তথ্যগুলো দাবি করেন তার কিছু তথ্য আমাদের হাতে থাকলেও পাঁচ বছরের এসিআর পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট প্রভৃতি হাতে না থাকায় এবং সেগুলো সংগ্রহ করতে পর্যাপ্ত সময় আমাদের হাতে না থাকায় তখন আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণ করা সম্ভব হয়নি। যদিও চাকুরী স্থায়ীকরণের কাজ চলছে তবুও স্থায়ীকরণ না থাকার কারণে যা সমস্যা হওয়ার কথা সেসব সমস্য না হওয়ায় আমাদের কার্যক্রমও দিনদিন পিছিয়ে যাচ্ছিল।
জেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের সাথে একাধিক বার যোগাযোগ করে তিনি আমাদের চাকুরী স্থায়ীকরণের সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন কিন্তু জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে আলাপ করে জানা যায় নিয়োগ, পেনশন, এলপিআর, পিআরএল, প্রমোশন যাবতীয় সুযোগ সুবিধা মঞ্জুর করেন আমাদের অধিদপ্তর বা মন্ত্রণালয়। এমতাবস্থায় জেলা পরিষদের চাকুরী স্থায়ীকরণ আদেশ ইনারা যদি গ্রহণ না করেন তখন একই কাজ আমাদের দ্বিতীয় বার করতে হবে।
এমতাবস্থায় গত অক্টোবর/২০১৭ সালে প্রধান শিক্ষকদের মাসিক সমন্বয় সভায় উপজেলা শিক্ষা অফিসারের অনুমতিক্রমে এ বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয় এবং আমাদের ১৯/১০/২০১৭ তারিখ অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রধান শিক্ষক সমিতির সাধারন সভায়, কর্মরত ও অংশগ্রহণকারী সকল প্রধান শিক্ষক থেকে ১,০০০/- (এক হাজার) টাকা গ্রহণ পূর্বক একটি ফান্ড গঠন করা হবে। কোন প্রধান শিক্ষকের নিজের কাগজপত্র প্রস্তুত থাকলে আমাদের কাজে অংশগ্রহণের প্রয়োজন নেই। এসিআর, পুলিশ ভেরিফিকেশন, যাবতীয় প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ফাইল নিয়ে রাঙামাটি বা ঢাকায় যোগাযোগের জন্য কম বা বেশি খরচ হতে পারে। সে কারণে একটি পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন পূর্বক যাবতীয় কাগজপত্র সংগ্রহের কাজ উক্ত কমিটি সম্পাদন করবেন। উত্তোলিত টাকায় কাজ সমাপ্ত না হলে শিক্ষকগণ আবার টাকা দিতে বাধ্য থাকিবেন এবং কাজ শেষে অতিরিক্ত টাকা থাকলে হিসাবান্তে কমিটি তা ফেরত প্রদান করিবেন। সমুদয় অর্থ সমিতির একাউন্টে গচ্ছিত থাকবে এবং চেকের মাধ্যমে উত্তোলন পূর্বক ভাউচার পাশ করার মধ্যমে আয়-ব্যয় হিসাব সংরক্ষণ করা হবে নি¤œরুপ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। তাই এবিষয়াদি সংবাদ মাধ্যমে সঠিকভাবে উপস্থাপন না করে ভুলভাবে বক্তব্য উপস্থাপন করা হয়।’
