নিজস্ব প্রতিবেদক
মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় তৎকালীন ইপিআরের সদস্য সংখ্যা ছিল বারো হাজারের মত। তদ্মধ্যে দশ হাজারের অধিক সেনা প্রত্যক্ষভাবে মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর ৮১৭ জন সেনা শহিদ হয়েছেন। মহান মুক্তিযুদ্ধের সাতজন বীরশ্রেষ্ঠের মধ্যে দুইজন বিজিবি’র সদস্য। মহান মুক্তিযুদ্ধে এই বাহিনীর বীরত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। যা নিঃসন্দেহে এই বাহিনীর জন্য অত্যন্ত গর্ব ও গৌরবের। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর এই বাহিনীর নাম বাংলাদেশ রাইফেল(বিডিআর) পরবর্তীতে বিজিবি নামকরণ করা হয়। বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ বিজিবি দিবস উদযাপন উপলক্ষে শুভেচ্ছ বক্তব্যে রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ তরিকুল ইসলাম এসব কথা বলেন। তিনি বিজিবি দিবসে সকলকে শুভেচ্ছা জানিয়ে আরো বলেন, বিজিবি শুধু সীমান্ত রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত নয়। দেশের যেকোন দুর্যোগ এবং অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষায় সর্বদায় যখনই সরকারের প্রয়োজন পড়েছে। এই বাহিনী সর্বোচ্চ নিরাপত্তার দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেছে।
মঙ্গলবার(২০ ডিসেম্বর) দুপুরে রাঙামাটি বিজিবি সেক্টর সদর দপ্তরে বিজিবি দিবস উদযাপন উপলক্ষে মধ্যাহ্নভোজ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য দীপংকর তালকুদার এমপি।
বিজিবি রাঙামাটি সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোঃ তরিকুল ইসলাম আরো বলেন, বিজিবি’র নিবেদিতপ্রাণ ও অকুতোভয় সদস্যরা এদেশের সীমান্তের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতসহ সীমান্তে চোরাচালান প্রতিরোধে অত্যন্ত দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের সাথে দিন রাত নিরলসভাবে কাজ করে চলেছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান সরকার বিজিবিকে একটি শান্তিরক্ষী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ভিশন-২০৪১ প্রণয়ন করেছেন। এই ভিশনের আওতায় বিজিবির সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তি, জনবল বৃদ্ধি ও আধুনিকায়নসহ সকল ক্ষেত্রে যুগোপযোগী উন্নতি সাধনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
এতে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি ডিজিএফআই কর্ণেল মোরশেদ আহম্মেদ চৌধুরী, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, অতিরিক্ত জেলাপ্রশাসক(সার্বিক) মোঃ সাইফুর ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) নাসরিন সুলতানা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) জাহিদুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমা বিনতে আমিন, প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, আরটিভি রাঙামাটি প্রতিনিধি ইয়াছিন রানা সোহেলসহ বিভিন্ন দপ্তরের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
উল্লেখ্য, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ ২২৭ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি সুশঙ্খল আধা সামরিক বাহিনী। যা শুরু হয়েছিল রামগড় লোকাল ব্যাটালিয়ন নামে মাত্র ৪৪৮ জন সদস্য নিয়ে ১৭৯৫ সালের ২৯ জুন। ২০১০ সালে ২০ ডিসেম্বর বর্ডার গার্ড আইন-২০১০ এর অনুমোদন সাপেক্ষে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ হিসেবে এই বাহিনী নতুনভাবে আত্মপ্রকাশ করেছে। সে দিন থেকেই প্রতিবছর দিবসটি পালন করা হয়।
Previous Article‘পুলিশকে সাধারণ মানুষের বন্ধু হতে হবে’
Next Article রাঙামাটিতে শুরু হয়েছে চতুর্থ ডোজের টিকা
