সাইফুল হাসান
পার্বত্য জেলা রাঙামাটির অন্যতম একটি প্রসিদ্ধ পর্যটন স্পর্ট সাজেক ভ্যালি। যেখানে বছরজুড়ে পর্যটকের ভিড় লেগে থাকে। সাজেকে প্রতিদিন সকালে বসে পাহাড়ি জিনিসপত্রের বাজার। রকমারি এসব পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসেন সাজেকের পাহাড়িরা।
মেঘ-পাহাড়ের জনপদ সাজেকের পাহাড়ি বাসিন্দারা রোজ সকালে দুর-দুরান্ত থেকে পাহাড়ি বিভিন্ন ফলমূল, শাক-সবজি, হাতের তৈরি নানান রকমের পোষাক, নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রসহ জুমের ফসল নিয়ে আসেন সাজেকের রুইলুইতে। তাদের মূল ক্রেতা হলেন পর্যটক। পর্যটকরা রোজ সকালে এ বাজার থেকে ক্রয় করেন পাহাড়ের নানার কিছু।
সাজেকের এই বাজার ঘুরে দেখা যায়, এখানে জুমের লাল ও কালো বিনি চাউল, পাহাড়ি কলা, কমলা, ঠান্ডা আলু, জংলি আলু, মরিচ সহ নানান রকমের সবজি, বাঁশ দিয়ে তৈরি মগ সহ বাঁশের তৈরি নানান জিনিসপত্র, কোমড় তাঁত দিয়ে তৈরি পোষাক সহ বিভিন্ন কিছু বাজারে নিয়ে এসেছে এ জনপদের পাহাড়িরা।
তেমনি একজন বিক্রেতা চিংলু মারমা বলেন, আমি বাজারে পাহাড়ি কলা, বিনি চাউল, সুপারি নিয়ে এসেছি। আমাদের এখান থেকে পর্যটকরা বাজার করে নিয়ে যায়। বেচাবিক্রি ভালো হয়।
বাজারে বাঁশ দিয়ে তৈরি মগ বিক্রি করতে আসেন উলামং। তিনি বলেন, আমি নিজের হাতে পাহাড় থেকে বাঁশ সংগ্রহ করে এনে তা দিয়ে মগ তৈরি করি। এ মগগুলোর চাহিদা ভালো। পর্যটকরা আসলেই এ মগগুলো ক্রয় করে নিতে চায়। পর্যটক বেশি হলে আমাদের বেচাবিক্রিও ভালো হয়।
ঋদ্ধিতা মারমা নামের এক বিক্রেতা বলেন, আমি বাঁশ দিয়ে হাতের তৈরি ঝুঁড়ি ও কোমড় তাঁত দিয়ে তৈরি চাদর এবং পাহাড়ি পোষাক নিয়ে এসেছি। যে পর্যটকরা সাজেক আসে তারা এসব জিনিস খোঁজে। এসকল জিনিসপত্রের চাহিদা ভালো।
ফিরোজপুর থেকে আসা এক পর্যটক আবির হোসেন বলেন, আমি সকাল থেকে এই বাজারে ঘুরছি। বাজারে যেসকল জিনিসপত্র এসেছে তার মধ্যে পাহাড়ি ফলমূল ও শাক-সবজি সব টাটকা। আমি পাহাড়ি কলা নিলাম অনেক সুস্বাদু।
রোকেয়া আক্তার লিপি বলেন, আমরা সাজেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে এলাম। এসে জানতে পারি সকালে এখানে বাজার বসে, তাই বাজারে এসেছি। আমি বাঁশ দিয়ে তৈরি মগ নিলাম, পাহাড়ের বিনি চাউল নিলাম আর আমার ও আমার মায়ের জন্য শাল নিলাম।
