রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএন লারমা)র সহযোগি সংগঠন যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক শতসিদ্ধি চাকমা (৩৫) ও এনো চাকমাকে(৩০) গুলি করে হত্যার ঘটনায় বুধবার মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাবেক বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বড় ঋষি চাকমাসহ আরো ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ রেখে বাঘাইছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলার বাদী নিহত এনো চাকমার স্ত্রী সুনয়না চাকমা।
পুলিশ জানায়, ঈদের আগের দিন রাত আনুমানিক সাড়ে এগারোটার দিকে উপজেলা সদরের বাবুপাড়ায় কমিউনিটি সেন্টারের পাশে নিজ বাসায় এক দল দুর্বৃত্ত আক্রমণ চালিয়ে ব্রাশ ফায়ারে শতসিদ্ধি চাকমা ও এনো চাকমাকে হত্যা করে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, যে এলাকায় এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, সেই বাবুপাড়া পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি(এমএনলারমা)র শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। দীর্ঘদিন ধরে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি ও প্রসীত খীসার নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ এর সাথে এই এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিরোধ চলে আসছিলো ২০০৯ সালে গঠিত এই সংগঠনটির।
পার্বত্য চট্টগ্রাম যুব সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি জ্ঞান চাকমা, নিহতদের নিজেদের নেতা দাবি করে এই হত্যাকান্ডের ঘটনার জন্য সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতিকে দায়ি করেছেন। তবে জনসংহতি সমিতি এই অভিযোগ অস্বীকার করেছে
বাঘাইছড়ি থানার অফিসার ইনচার্জ এম এ মনজুর জানান, বাঘাইছড়িতে শতসিদ্ধি চাকমা ও এনো চাকমা হত্যার ঘটনায় সাবেক বাঘাইছড়ি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) এর উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক বড় ঋষি চাকমাসহ আরো ৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাত আরো ২০/২৫ রেখে বাঘাইছড়ি থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।
