ওমর ফারুক মুছা, লংগদু
মিশ্র ফলজ বাগান সৃষ্টি করে স্বাবলম্বী হবেন। বাগানের আয় দিয়ে সংসারের দুঃখ গোছাবেন ইসমাইল হোসেন। এমনি এক স্বপ্ন নিয়ে রাঙামাটির লংগদুতে রাঙ্গাপানিছড়া এলাকায় এক একর জায়গায় গড়ে তুলেছেন মিশ্র ফলজ বাগান। কিন্তু প্রতিবেশীর আগুনে পুড়ে ছাই হলো তার সেই স্বপ্নের মিশ্র ফলজ বাগান।
রবিবার বাগান মালিক ইসমাইল হোসেন অভিযোগে জানান, লংগদু উপজেলার ভাসান্যদম ইউনিয়নের ১০নং রাঙ্গাপানিছড়া এলাকায় রেকর্ডভুক্ত নিজস্ব এক একর জায়গাতে মিশ্র ফলজ বাগান গড়ে তোলার উদ্দেশে ৩শত মালটা, শতাধিক আমলকি ও লিচু গাছের চারা লাগাই। গত দু’বছর যাবৎ ভালো ফলন আসছিলো গাছে। যা আমার স্বপ্নের বাগানে রূপান্তর হতো। কিন্তু আমার এস্বপ্নকে আগুনে পুড়ে ছাই করে দিয়েছে একই এলাকার প্রতিবেশি শামসুল হকের ও লোকজনের দেয়া আগুনে।
তিনি অভিযোগে আরো জানান, গত ১১ এপ্রিল আমার পার্শ্ববর্তী এক কৃষক দুপুরে হঠাৎ আমার বাগানে দাউ দাউ করে আগুন জলতে দেখে তিনি আমাকে মোবাইল ফোনে জানালে তখন আমি দৌঁড়ে বাগানে এসে দেখি আমার পুরো বাগান আগুনে পুড়ে গেছে। বাগানের মালিক ইসমাইল হোসেন আরো বলেন, এবিষয় আমি লংগদু থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছি। আমি চাই তদন্ত সাপেক্ষে সুষ্ঠু বিচার হোক। আমার বাগানের বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় ছয় লক্ষ টাকা হবে। আমার ইউনিয়নে আমি প্রথম মাল্টা চাষে আগ্রহী হই। এখন আমি পুরোপুরি ক্ষতিগ্রস্ত।
এদিকে একই এলাকার বাসিন্দা ও প্রত্যক্ষদর্শী আব্দুল মোতালেব জানান, আমি দুজন ব্যক্তিকে বাগানে আগুন লাগাতে দেখেছি। তখন তাদেরকে বার বার আগুন নিভাতে বলি। তা না হলে বাগান পুড়ে যাবে। কিন্তু তারা চুপচাপ করে চলে যায়। পরে আমি বাগানের মালিককে মোবাইল করে ঘটনা বলি। বাগান মালিক আসতে আসতে বাগান পুড়ে গেছে।
অপর দিকে অভিযুক্ত শামসুল হকের কাছে এব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ইচ্ছে করে ইসমাইলের বাগানে কোন আগুন দেইনি। এটা বাতাসের কারণে তার বাগানে আগুন লেগে গেছে। আমার ভাগিনা আমার বাগান পরিষ্কার করার জন্য আগুন দিয়েছিলো। কিন্তু বাতাসের কারণে পাশের বাগানেও আগুন লেগে যায়। আমরা চেষ্টা করেও আগুন নিভাতে পারিনি।
লংগদু থানায় যোগাযোগ করা হলে থানার অফিসার ইনচার্জ আরিফুল আমিন জানান, রাঙ্গাপানিছড়া এলাকায় একটি ফলজ বাগানে আগুন দিয়ে পুড়ে দেওয়ার ঘটনার অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনাস্থল তদন্ত করা হয়েছে। এব্যাপারে আইনানুগ ব্যাবস্থা নেওয়া হবে বলে তিনি জানান।
