মিশু মল্লিক
ধর্মীয় চেতনায় উজ্জীবিত হওয়ার পাশাপাশি নিজেকে একজন ভালো মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে এবং সত্যের সন্ধানে নিয়োজিত হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি। বৃহস্পতিবার দুপুরে শহরের তবলছড়ির শতবর্ষী মন্দির শ্রীশ্রী রক্ষাকালী মন্দিরের সার্ধশত বার্ষিকী উদযাপন ও মায়ের পবিত্র ঘট স্থাপন অনুষ্ঠানের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এইসব কথা বলেন তিনি। বৃহস্পতিবার সমবেত প্রার্থনার মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে সার্ধশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে তিনদিনের অনুষ্ঠানমালা।
বৃহস্পতিবার সকালে সার্ধশত বার্ষিকী উদযাপন উপলক্ষে একটি শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত হয়। রাঙামাটি জেলা প্রশাসক কার্যালয় হতে শুরু হয়ে শহরের মূল সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে শোভাযাত্রা শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন সিলেট রামকৃষ্ণ মিশনের অধ্যক্ষ শ্রীমৎ স্বামী চন্দ্রনাথানন্দ মহারাজসহ আমন্ত্রিত অতিথিরা।
সার্ধশত বর্ষপূর্তি উৎসব উদযাপন পরিষদের আহবায়ক সঞ্জীব চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও শিখা ত্রিপুরার সঞ্চালনায় আলোচনা সভায় গেস্ট অব অনার ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন ইন্সটিটিটিউট অব হেলথ টেকনোলজির অধ্যক্ষ ডা. নুপুর কান্তি দাশ, রাঙামাটি পৌরসভার মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী তুষিত চাকমা, রাঙামাটি প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি সুনীল কান্তি দে, শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরের প্রধান উপদেষ্টা এডভোকেট দুলাল কান্তি সরকার, রাঙামাটি পৌরসভার ৩ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর পুলক দে, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ রাঙামাটি জেলা সমন্বয় কমিটির সদস্য সচিব রণতোষ মল্লিক, শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরের সভাপতি আশীষ কুমার দে প্রমুখ। সভায় স্বাগত বক্তব্য রাখেন মন্দির পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক পঙ্কজ মল্লিক টিটু। শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন সার্ধশত বর্ষপূর্তি উৎসবের সদস্য সচিব স্বপন কান্তি মহাজন।
প্রধান অতিথি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেন, এই মন্দিরটি রাঙামাটির সর্বপ্রাচীন এবং কেন্দ্রীয় মন্দির। এটি শুধু সনাতন ধর্মালম্বীদের কাছেই গুরুত্বপূর্ণ মন্দির নয়। অন্যান্য ধর্মের অনেকেই এই মন্দিরকে খুব শ্রদ্ধা করেন বলে আমি জানি। সংস্কারকৃত দৃষ্টিনন্দন নতুন মন্দিরে ১৫০ বছর উদযাপনের এই মূহুর্তটি স্মরণীয় হয়ে থাকার মত। ধর্মচর্চার পাশাপাশি সবাইকে ভালো মানুষ হওয়ার আহবান জানান তিনি।
উন্নয়ন বোর্ড চেয়ারম্যান নিখিল কুমার চাকমা বলেন, প্রাচীনতম এই মন্দিরটি এই অঞ্চলের জন্য একটি ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান। এটি মন্দির নির্মাণে উন্নয়ন বোর্ড অর্থায়ন করেছে এবং ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠানসমূহ সংরক্ষণে বোর্ড অর্থায়ন করে যাবে।
সভায় বক্তারা আরো বলেন, শ্রীশ্রী রক্ষা কালী মন্দিরের সুখ্যাতি সারা দেশজুড়ে। বিভিন্ন ধর্মের মানুষের কাছে মন্দিরটি শ্রদ্ধার জায়গায় আছে। মন্দিরটি নতুন করে তৈরি হওয়াতে এটি রাঙামাটির সবচাইতে দৃষ্টিনন্দন মন্দির হিসেবে স্বীকৃতি পাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বক্তারা।
সার্ধশত বর্ষপূর্তি উদযাপন উপলক্ষে তিনদিন নানান আনুষ্ঠানিকতার আয়োজন রয়েছে। যার মধ্যে চন্ডীযজ্ঞ, মায়ের ঘট স্থাপন, বস্ত্র বিতরণ, কালী কীর্তন, ও দেশবরণ্য শিল্পীদের অংশগ্রহণে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অন্যতম। এই তিনদিনে প্রায় ২০ হাজার ভক্তবৃন্দের সমাগম হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন আয়োজকরা।
