থানচি প্রতিনিধি ॥
বান্দরবানে থানচি অবাধে নির্বিচারে পাথর উত্তোলন, ঝিরি, ঝর্না, সাঙ্গু নদী হতে বালি উত্তোলন, জুমের বিষাক্ত কীটনাশক ছিটানো, পর্যটন অঞ্চল ও বিভিন্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল হতে অবাধে মূল্যবান গাছ কর্তন, উপজেলা বাজারসমূহে গ্যাস, জ্বালানি তেল বিক্রি, গৃৃহপালিত পশুদের জনসম্মুখে যত্রতত্র মলমূত্র ত্যাগে পরিবেশের ওপর মারাত্মক প্রভাব পড়ছে বলে কর্মশালায় মত ব্যক্ত করেছেন আলোচকরা।
স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন কারিতাস বাংলাদেশ চট্টগ্রাম অঞ্চলের তত্ত্বাবধানের পার্বত্য অঞ্চলের জন্য এগ্রো ইকোলজি প্রকল্প- ২ এর আয়োজনের পরিবেশ রক্ষায় করণীয় শীর্ষক কর্মশালা বুধবার দিনব্যাপী উপজেলা পরিষদের হল রুমে অনুষ্ঠিত হয়। দিনব্যাপী কর্মশালা সভাপতিত্ব ও উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইউএনও মুহা: আবুল মনসুর। এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন থানচি কলেজে অধ্যক্ষ ধমিনিক ত্রিপুরা, উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নূর মোহাম্মদ, কারিতাস চট্টগ্রাম অঞ্চলে মনিটরিং রিপোর্টিং ও মিল জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা ফরহাদ আজিম, বান্দরবান কার্যালয়ের জুনিয়র কর্মসূচি কর্মকর্তা উসিংনু মারমা, উপজেলা মাঠ কর্মকর্তা হাঁদি চন্দ্র ত্রিপুরা। কর্মশালা অংশগ্রহণকারী ও অতিথিদের গ্রুপ করে তিনভাগে বিভক্ত হয়ে থানচি উপজেলা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবেশের সুরক্ষা করণীয় বিষয়ের আলোচনা করেন এবং গ্রুপ প্রধানরা পরিবেশ সুরক্ষা করণীয় বিষয়ে উপস্থাপন করা হয়।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, কাটার যোগ্য গাছ কাটা এবং একটা কাটলে ১০টা রোপণ নিশ্চিত করা, পাথর বালি উত্তোলন, জ্বালানি তেলসহ রাসায়নিক গ্যাস, অকটেন, পেট্রোল লাইসেন্সবিহীন বিক্রয়ে প্রতিটি বাজারে প্রশাসনিকভাবে তদারকি করা এবং সাপ্তাহিক ভ্রাম্যমান আদালত বসে জনসম্মুখে জরিমানা শাস্তির ব্যবস্থা করা। পরিকল্পিতভাবে জুম চাষের ওপর পরিবেশ ক্ষতি না হয় সে বিষয়ে স্থানীয় প্রতিনিধি, হেডম্যান-কারবারি, জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে সেমিনার, উঠান বৈঠক, ব্যবস্থাপনা ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
কর্মশালা সরকারি কর্মকর্তা, কর্মচারী, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ধর্মীয় গুরু, সুশীল সমাজের নেতা, কলেজের শিক্ষার্থীসহ ৩০ জন অংশ নেন।
