ইতোমধ্যেই মেয়াদ পেরিয়ে আরো ছয়মাস অতিক্রান্ত তিন পার্বত্য জেলা পরিষদের সম্ভাব্য পরিবর্তনের আলোচনা আর কানাঘুষায় অস্থির পার্বত্য জনপদ। বুধবার দুপুর থেকেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে নানান জল্পনা কল্পনা। সম্ভাব্য নানান জনকে চেয়ারম্যান ও সদস্য হিসেবে পরিচয় দিয়ে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দনের বন্যা বইয়ে দিচ্ছেন নানান শ্রেণীর মানুষ।
এইসব আলোচনায় নাম উঠে এসেছে তিন বা চারজনের,যাতে বলা হয়, বান্দরবানে টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব পাচ্ছেন বর্তমান চেয়ারম্যান ও পার্বত্য মন্ত্রী বীর বাহাদুরের স্ত্রীর ভাই ক্য শৈ হ্লা,খাগড়াছড়িতে সংসদ সদস্য কুজেন্দ্র লাল ত্রিপুরার ভাতিজি জামাই সাবেক ছাত্রলীগ সভাপতি ও বর্তমান জেলা কমিটির যুগ্ম সম্পাদক মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু এবং রাঙামাটি জেলা পরিষদ সদস্য হিসেবে টানা দুমেয়াদে দায়িত্ব পালন করা কাউখালীর আওয়ামীলীগ নেতা অংসুই প্রু মারমার নাম।
বুুধবার বিকেলে বান্দরবান থেকে প্রকাশিত একটি অনলাইন পোর্টালে খাগড়াছড়িতে বর্তমান চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরীও বান্দরবানে ক্য শৈ হ্লা পুনর্বহাল আছেন ও রাঙামাটি অংসুই প্রু মারমা চেয়ারম্যান হয়েছেন,এমন সংবাদ প্রচারিত হলেও রাতেই সেটি পরিবর্তন করে জানানো হয়,খাগড়াছড়িতে নতুন চেয়ারম্যান হচ্ছেন মংসুইপ্রু চৌধুরী অপু ! পার্বত্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজন দ্বারা পরিচালিত অনলাইনটি দুইদফায় পার্বত্য মন্ত্রলায়য়ের একটি সূত্রকে ব্যবহার করে দুইবার দুইজনকে চেয়ারম্যান হিসেবে সংবাদ পরিবেশন করলেও পরে এ বিষয়ে আর কোন ব্যাখ্যা দেয়নি ! চেয়ারম্যান হিসেবে দুইবার দুইজনের নাম প্রচারে বিভ্রান্ত পাঠকও। আর কোন উপজেলা থেকে কে সদস্য হচ্ছেন, এনিয়েও ফেসবুকজুড়ে চলছে ভ্রান্তি আর অপ্রয়োজনীয় বিশ্লেষন।
এর আগে রাঙামাটির সংসদ সদস্য দীপংকর তালুকদারের ব্যক্তিগত সহকারি অমিত চাকমা একটি স্ট্যাটাসে জানান-‘ আসিতেছে.. ’। এরপরই রাঙামাটি জেলাজুড়ে শুরু হয় ‘অজ্ঞাত’ সূত্রের বরাতে ‘অভিনন্দন’ আর ‘শুভেচ্ছা’র বন্যা।
তবে আদৌ কোন পরিবর্তন হয়েছে কিনা সেই সম্পর্কে নিশ্চিত কোন তথ্য জানাতে পারেননি দায়িত্বশীল কোন পক্ষ।
রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হাজী মুছা মাতব্বর জানিয়েছেন, ‘আমি কিছুই জানিনা, আমার ছবি দিয়েও নাকি শুভেচ্ছা জানাচ্ছে ! যদি সত্যিই কিছু হয়ে থাকে,সেটা তো অফিসিয়ালিই হবে এবং আমরা সেটাই জানব। আমি আপনাকে নিশ্চিত করছি,আমি এখনো কিছুই জানিনা,কিছুই শুনিনি,আপনার মতো আমিও ফেসবুকেই দেখছি,নানান জনের স্ট্যাটাস’ !
বান্দরবান জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ও পৌর মেয়র ইসলাম বেবী পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানিয়েছেন, ‘পরিবর্তনের কোন সংবাদ এখনো আমরা পাইনি। অফিসিয়ালি কিছু না জানা পর্যন্ত আমরা এই সংক্রান্ত বিষয়ে কোন মন্তব্য করা ঠিক হবেনা।’
খাগড়াছড়ি জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্মলেন্দু চৌধুরীও নিশ্চিত না হয়ে এই বিষয়ে এখনই কোন কথা বলতে চাননা বলে জানিয়েছেন।
জেলা পরিষদে পরিবর্তন হয়েছে বা হচ্ছে কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের সচিব মোঃ সফিকুল আহম্মদ বৃহস্পতিবার বিকালে জানিয়েছেন, এমন কোন তথ্য আমার জানা নেই। পরিবর্তন তো হওয়ার কথা,হয়ত হবে শীঘ্রই। আকাশে চাঁদ উঠলে সবাই দেখতে পাবেন। তবে এখনো কিছু হয়নি।’
রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান বৃষ কেতু চাকমা বলেছেন, ‘আমিও নানা কথা শুনছি,নানা জায়গা থেকে। কোনকিছুই স্পষ্ট নয়। আমিতো ছয়মাস আগে যখন আমাদের পরিষদের মেয়াদ শেষ,সেই সময় থেকেই যাওয়ার জন্য প্রস্তুত,বাড়তি ছয়মাস সময়তো পেলাম ! সরকার যখনই বলবে,তখনই চলে যাব।’
এদিকে বরাবরই রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদের প্রত্যাশিত পরিবর্তনের খবর আসে পরিষদের ফ্যাক্সে। কিন্তু বুধবার বিকালে খোঁজ নিয়ে জানা গেলো,সেই ফ্যাক্সটিই নষ্ট বেশ ক’মাস ধরে ! ফলে প্রথা ভেঙ্গে পরিষদের ফ্যাক্সে যে নতুন পরিষদ গঠনের খবর আসছেনা,সেটি মোটামুটি নিশ্চিতই বলা যায়। ধারণা করা হচ্ছে,পরিবর্তনের সংবাদটি প্রধানমন্ত্রীর অনুমোদন এবং রাষ্ট্রপতির সাক্ষরের পর গেজেট প্রকাশিত হলে,ই-মেইলে’ই পৌঁছাবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
অসমর্থিত নানান সূত্র জানাচ্ছে,রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদে চেয়ারম্যান হিসেবে চমক থাকছে নিশ্চিত,তবে কারা সেই চমক,সেই নামগুলো সূত্র সমূহ জানালেও,‘ক্রসচেক’-এ ভিন্ন ভিন্ন ভাষ্য পাওয়ায়,অসমর্থিত সূত্রের সেই ‘অস্পষ্ট’ ও ‘অনিশ্চিত’ নামগুলো প্রকাশ করছে না,পাহাড়ের সবচে দায়িত্বশীল অনলাইন হিসেবে সুপরিচিত সর্বাধিক পঠিত ‘পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম’। যখনই সরকারিভাবে এই সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত হওয়া যাবে,তখনই নতুন মনোনীত চেয়ারম্যান ও সদস্যদের নামসহ সংবাদ পরিবেশন করা হবে বলে জানিয়েছেন নিউজপোর্টালটির নির্বাহী সম্পাদক হেফাজত সবুজ। তিনি বলছেন- ‘দ্রুত অনিশ্চিত বা ভুল তথ্য নয়,ঠিক সময়ে সঠিক সংবাদটিই পরিবেশন করতে চাই আমরা।’
তবে ঘটনা যাই হোক না কেনো, ১৯৮৯ সালে ‘স্থানীয় সরকার পরিষদ’ নামের প্রথম পরিষদের নির্বাচনের পর টানা দুই যুগেরও বেশি সময়কাল ধরে নির্বাচনহীন এই প্রতিষ্ঠানটি ‘দলীয় নেতাকর্মীদের পুনর্বাসন কেন্দ্র’ হিসেবে ব্যাপকভাবে সমালোচিত হলেও, এর ‘আবেদন ও প্রয়োজন’ যে এখনো ব্যাপক ও তীব্র, তারই যেনো আলামত দেখা যাচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। পাহাড়কেন্দ্রিক মানুষের ফেসবুক জুড়ে এখন শুধুই তিন ‘পার্বত্য জেলা পরিষদ’ !
