হেফাজত সবুজ ॥
খাদ্য বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের রাজনৈতিক আন্দোলনের পক্ষে এখানে সশস্ত্র আন্দোলন গড়ে তোলে জনসংহতি সমিতি। সে কারণে আমরা লক্ষ্য করলাম এখানে অশান্ত পরিবেশ, বারুদের গন্ধ, অবৈধ অস্ত্রের ঝনঝনানির কারণে এখানে জনজীবন হয়ে ওঠে অতিষ্ট। ফলে এ অঞ্চলের স্থায়ী শান্তি ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নিয়েছিল আমাদের সরকার। তারই ধারাবাহিকতায় ১৯৯৭ সালে পার্বত্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষরের দুই যুগ পূর্তি হয়েছে। এখন কেউ বলছেন চুক্তির কিছুই বাস্তবায়ন হয়নি, এটা যেমন সত্য নয় তেমনি পূর্ণ বাস্তবায়ন হয়েছে সেটাও সত্য নয়। দীপংকর তালুকদার পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তির দুই যুগ পূর্তি উপলক্ষে স্থানীয় সাংবাদিকদের দেয়া এক বক্তব্যে এসব কথা বলেন। গত সোমবার সকালে শহরের চম্পকনগরের নিজ বাসভবনে শান্তি চুক্তির বর্ষপূর্তিকে সামনে রেখে এসব কথা বলেন।
তিনি আরো বলেন, এই ২৪ বছরে চুক্তিটা পূর্ণ বাস্তবায়ন না হওয়াটা আমাদের জন্য কষ্টকর ও যন্ত্রণাকর। এসময়ের মধ্য চুক্তিটা বাস্তবায়ন হওয়াটা উচিৎ ছিল। কিন্তু আমরা যদি বাস্তবতার নিরিখে যদি বিচার করা হয় তাহলে দেখা যায় যে এখানে শান্তি বজায় রাখা, স্থিতিশীল পরিবেশ বজায় রাখা উচিত ছিল। শান্তি চুক্তির সকল পক্ষকে সম্মিলিতভাবে কাজ করাটাই ছিল প্রধান শর্ত। কিন্তু যারা চুক্তি বাস্তবায়ন চায় তারা তো আওয়ামীলীগকে এই তিন জেলা থেকে নিশ্চিহ্ন করে দিতে মাঠে নেমেছে। এই দুই যুগে আওয়ামীলীগ ছাড়া অন্য কোন জাতীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীকে হত্যা করেছে এমন কোনও নজির নাই। আওয়ামীলীগ কর্মীদের হত্যা করে যারা চুক্তির বাস্তবায়ন চায়, আমিতো মনে করি এটা বোকার স্বর্গে বসবাস কার। এই যে চুক্তি বাস্তবায়ন করা দুইটি পক্ষের মধ্যে বৈরীভাব তৈরি হয়েছে এটাই চুক্তি বাস্তবায়ন করার ক্ষেত্রে বড় অন্তরায়।
তিনি বলেন, এরপর জনসংহতি সমিতির নেতা সন্তু লারমা ঘোষণা দিলেন যতদিন পর্যন্ত চুক্তির পূর্ণ বাস্তবায়ন না হয় ততদিন পর্যন্ত তিনি ভোটার হবেন না, কোনও নির্বাচনেও অংশগ্রহণ করবেন না। কিন্তু তিনি (সন্তু লারমা) যারা চুক্তির বিরোধিতা করেছে সেই বিএনপিকে তলে তলে সমর্থন দিলেন। তাদের (সন্তু লারমা)র অস্ত্রধারীদের মাধ্যমে ২০০১ সালে আমাদের ৪০টি ভোট কেন্দ্র ভোটার যেতে দিল না। এখন কথা হলে চুক্তির পক্ষের শক্তিকে প্রতিহত করতে গিয়ে চুক্তির বিরোধিতাকারীদের সাথে আঁতাত করাটাও চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য বাধা নয় কি?
তারপর সন্তু লারমা ভোটার তালিকায় নিজের নাম যুক্ত করলে। তাহলে আগে কেন সাধারণ মানুষের কাছে ভুল বার্তা পাঠালেন, এটাও তো অনুকূল পরিস্থিতি বলা যাবে না। যে জন্য আমি বলবো পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমেই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য কাজ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, চুক্তি বাস্তবায়ন কমিটির আহবায়কের অসুস্থতার কারণে আহবায়ক পরিবর্তন হয়েছে। ২০১৯ সার থেকে কোভিড মহামারীর কারণে সভা করা সম্ভব হয়নি। ফলে চুক্তি বাস্তবায়নে তেমন কোনও অগ্রগতি হয়নি। তবে ইতিমধ্যে সভার সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে, ডিসেম্বরের সপ্তাহ খানেকের মধ্যে এই সভা অনুষ্ঠিত হবে। আবার পূর্বের অবস্থায় ফিরে যাব, অস্ত্র হাতে নেব, এমন শ্লোগান না দিয়ে, হতাশ না হয়ে আলাপ আলোচনার মাধ্যমেই শান্তি চুক্তি বাস্তবায়ন করতে হবে। আমরাও চাই যে সকল অবাস্তবায়িত ধারাগুলো আছে সেগুলো ধারাবাহিকভাবে বাস্তবায়ন হোক।
