হেফাজত সবুজ ॥
রাঙামাটিতে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হচ্ছে পাবলিক ফুড ডিস্টিবিউশন সিস্টেম (পিএফডিএস)র আওতায় খোলা বাজারে চাল বিক্রয়। বুধবার বিকালে জেলা প্রশাসনের সম্মেলন কক্ষে এক জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়।
রাঙামাটির জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় বক্তব্য রাখেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. সাইফুল ইসলাম, রাঙামাটি পৌরসভা মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী, জেলা খাদ্য কর্মকর্তা কানিজ জাহার বিনু, ৮নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কালায়ন চাকমা।
জেলা খাদ্য কর্মকর্তা কানিজ জাহান বিনু বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে নির্দেশনা পাওয়ার সাথে সাথেই ডিলারদের নিয়ে সভা করে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। রাঙামাটি পৌরসভায় ৯ওয়ার্ডে ৯জন ও সদর উপজেলায় ৯ জন ডিলার এই চাল বিক্রি করবেন। আগামীকাল সকাল থেকে বিকাল ৫ পর্যন্ত (যতক্ষণ চাল থাকে ততক্ষণ) চাল বিক্রয় করবেন। প্রত্যেক ডিলার প্রতিদিন ২ টন করে চাল বিক্রয় করবেন। যা চলবে সপ্তাহে ৫ দিন। এই চালের মূল্য নির্ধারণ করা করা আছে প্রতিকেজি ৩০ টাকা। জনপ্রতি ৫ কেজি করে চাল প্রদান করা হবে। ডিলারগণ কিভাবে চাল বিক্রয় করবে তা তাদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে। আপনার সকলে সেই নিয়মেই জনগণেরর কাছে চাল বিক্রয় করবেন। আর যারা এই চাল ক্রয় করবে তার অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি সাথে নিয়ে আসতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ডিলারদের তদারকি করার জন্য ডিলার প্রতি দুজন করে কর্মকর্তা থাকবেন। তারা এই কর্মসূচির তদারকি করবেন। তাদের নির্দেশনা মোতাবেক ডিলাররা কাজ করবেন। এই নির্দেশনার বাইরে যাবার কোন সুযোগ নেই।
পৌর মেয়র আকবর হোসেন চৌধুরী বলেন, এটি আমাদের সরকারের একটি মহৎ উদ্যোগ। নি¤œ আয়ের মানুষের কথা বিবেচনায় নিয়ে সরকার এই কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আমি ও আমার কাউন্সিলরগণ সব সময় এই কাজে সহায়তা করবো। মেয়র বলেন, জনপ্রতিনিধিগণ তাদের কাজ করবে। তবে জনগণ কেউ সচেতন হতে হবে। যাতে সবাই এই চাল কিনতে পারে তার জন্য একে অপরকে সহায়তা করতে হবে। কেউ একাধিকবার চল নিবেন না। এমন অন্যায় যদি কেউ করেন পুলিশ আপনাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে সেখানে আমরা কিছু করব না। প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি, পুলিশ আমরা সকলে মিলে সরকারের এই মহৎ কাজটাকে চলমান রাখব।
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বলেন, দেশে কোন খাদ্য ঘাটতি নেই। বর্তমানে দেশে প্রায় ১৯ লাখ মে.টন খাদ্য মজুদ আছে। যা বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম। আরও ৫ লাখ মে.টন চাল দেশে আসছে। সুতরাং চাল নিয়ে কেউ চালবাজি করার সুযোগ পাবে না।
তিনি বলেন, এই কর্মসূচি যদিও খাদ্য মন্ত্রণালয়ের, কিন্তু এটি সরাসরি তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী। তাই ডিলারদের বলবো আপনারা কোন কারসাজি করে পার পাবেন না। আমাদের পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে তদারকি হবে, তবে কিভাবে সেটা আমাদেরও অবহিত করা হয়নি। সুতরাং এগুলো নিয়ে আপনারা কেউ কিছু করতে যাবেন না। যদি কিছু করতে চান তা তো পারবেনই না বরং ডিলারশিপ বাতিল হবে মামলার আসামি হবেন।
ডিসি আরও বলেন, আমি যেখানে চাকরি করি সেটাই আমার বাড়ি। এটা আমি ফিল করি। সুতরাং আমিও কোন ছাড় দিবো না। সাধারণ মানুষের জন্য রাষ্ট্রের সহযোগিতা নিয়ে অতীতে রাঙামাটির ডিলার বা মানুষ কিছু করেনি। আমি বিশ্বাস থেকে বলছি এবারও আমরা সফলভাবে সরকারের এই মহৎ উদ্যোগটা শেষ করতে পারবো।
সভায় জানানো হয় ১ সেপ্টেম্বর থেতে জেলার সকল উপজেলায়ও এই কার্যক্রম চালু হবে।
