খাগড়াছড়ি প্রতিনিধি ॥
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় ঐক্যের দাবি জানিয়ে ‘সর্বস্তরের জনগণ, দীঘিনালা’ ব্যানারে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার সকাল ১০টার সময় এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভা থেকে অতিদ্রুত সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
আয়োজিত সভায় সভাপতিত্ব করেন ৪নং দীঘিনালা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান বাবু চন্দ্র রঞ্জন চাকমা এবং সঞ্চালনায় করেন যুব নেতা জ্ঞান চাকমা। সভায় বাবুছড়া ইউনিয়নের সাবেক মেম্বার (কার্বারি) জ্ঞান মুনি চাকমা বলেন “আমরা দীর্ঘ ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের কারণে অনেক ভাইকে হারিয়েছি, আর হারাতে চাই না”। সংঘাতের কারণে আমরা বাবুছড়ার সুযোগ্য সন্তান অনিমেষ চাকমাকে হারিয়েছি। আমি ব্যক্তিগতভাবে আর সংঘাত দেখতে চাই না। তিনি সন্তু লারমার জেএসএস ও ইউপিডিএফ উভয় দলকে অতিদ্রুত ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানান।
দীঘিনালা ভ্রাতৃঘাতি সংঘাত প্রতিরোধ কমিটির সদস্য এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধি অরুণ বিকাশ চাকমা বলেন, জনগণ কোনদিনই সংঘাত চায় না। গত কয়েক বছর যাবত পাহাড়ের প্রধান দলের সংঘাত বন্ধ থাকায় সাধারণ জনগণ কতো খুশিতে বসবাস করেছে। কিন্তু এই দুই দলের মধ্যে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় জনগণের মধ্যে আবারো উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
বাবুছড়া ইউনিয়নের ৪, ৫, ৬ নং ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার প্রতিভা চাকমা বলেন, আমরা নারীরা আর স্বামী হারাতে চাই না, ভাই হারাতে চাই না। অনেক পাহাড়ি নারী ভাইয়ে ভাইয়ে সংঘাতের কারণে স্বামীহারা হয়ে জীবন-যাপন করতে বাধ্য হচ্ছে। পাহাড়ে নারীরা এমনিতেই অনেক কষ্টে জীবনযাপন করে সংসার পরিচালনা করে। স্বামী হারালে আরো বেশি কষ্ট পেতে হয়। তিনি বলেন, ভাইয়ে ভাইয়ে যাতে সংঘাত না হয় সেজন্য সকল শ্রেণী-পেশার মানুষকে সচেতন হতে হবে এবং সংঘাত বন্ধের জন্য এগিয়ে আসতে হবে।
প্রাক্তন শিক্ষক বাবু পূর্ণজ্যোতি চাকমা বলেন, আসলে উভয়পক্ষ যদি সংঘাত বন্ধের জন্য আন্তরিক না হয় তাহলে এক পক্ষ সংঘাত বন্ধ চাইলেও এটা বন্ধ হবে না। এজন্য সকল পক্ষকে সহশীলতা প্রদর্শন করে সংঘাত বন্ধের জন্য আন্তরিকভাবে এগিয়ে আসতে হবে।
তিনি বলেন, অতীতে চোখের সামনেই দেখেছি ভাইয়ে-ভাইয়ে মারামারিতে নিজ আপনজন মারা যেতে। কাজেই এমন সংঘাত আর কারোর কাম্য নয়। তাই সকল দলকে সংঘাত বন্ধে আন্তরিক হতে হবে। সবাইকে সংঘাতের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে। তা না হলে সংঘাত বন্ধ হবে না।
সভার সভাপতি চন্দ্র রঞ্জন চাকমা বলেন, সংঘাতের কারণে প্রায় ৭০০’র অধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছে। ভাইযে ভাইয়ে সংঘাত হলে যে জাতি ধ্বংস হবে সেটা কি সন্তু লারমার জেএসএস ও ইউপিডিএফ নেতৃত্ব বুঝে না? তারা কি চিনে না আসল শত্রু কে? না চিনলে ভবিষ্যতে এ সংঘাত আরো বাড়বে। তিনি পাহাড়ে চলমান এ সংঘাত বন্ধে সরকারেরও সুনজর দেওয়া উচিত বলে মনে করেন।
তিনি বলেন, চলমান এ সংঘাত বন্ধে যেটা সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন তা হচ্ছে পাহাড়ের আঞ্চলিক সংগঠনগুলো একে অপরের প্রতি সৌহার্দ্যপূর্ণ মনোভাব পোষণ করা ও ভ্রাতৃত্ববোধ জাগরিত করা। এছাড়া এ সংঘাত বন্ধের জন্য সমাজের বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক, ধর্মীয় গুরু, ছাত্র, যুবক, নারীসহ সর্বস্তরের জনগণকে এগিয়ে আসতে হবে বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।
