নিজস্ব প্রতিবেদক, লংগদু
খাদ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও রাঙামাটির সাংসদ দীপংকর তালুকদার এমপি বলেছেন, ‘আওয়ামীলীগ কথা ও কাজে বিশ্বাসী। আমরা যে কথা দিয়ে থাকি সেটা বাস্তবায়ন করি। আমি এমপি হয়ে আসার এই গুলশাখালীতে স্কুল, কলেজ, রাস্তা, ব্রিজ ও কালভার্ট নির্মাণে আমাদের যতটুকু সাহায্যের সামর্থ ছিল করেছি। ধীরে ধীরে উন্নয়ন হতে যাচ্ছে। গুলশাখালী উন্নয়ের পথে গেলেও উন্নয়নের প্রধান শর্ত বিদ্যুৎ ছিলো না। সে বিদ্যুতের দাবিও আমরা পূরণ করেছি। এখন থেকে গুলশাখালীবাসী বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত হবে।
সোমবার রাঙামাটির লংগদু উপজেলায় বিদ্যুৎ বাস্তবায়ন প্রকল্পের আওতায় গুলশাখালী ইউনিয়নে বিদ্যুৎ সংযোগ প্রকল্পের উদ্বোধন উপলক্ষে গুলশাখালী উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
লংগদু উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল বারেক সরকারের সভাপতিত্বে ও গুলশাখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুদ রানার পরিচালনায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. মাইনুল আবেদীন, রাজনগর বিজিবি জোনের ভারপ্রাপ্ত জোন কমান্ডার মেজর মো. নুরুল ইসলাম খান, পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদ সদস্য হাজী মো. কামাল উদ্দিন, রাঙামাটি পার্বত্য জেলা পরিষদ সদস্য আব্দুর রহীম ও আছমা বেগম, লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুল আমিন, তিন পার্বত্য জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন প্রকল্প, রাঙামাটির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. সাইদুর রহমান।
এতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, গুলশাখালী আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম। এসময় উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান সিরাজুলা ইসলাম ঝান্টু, গুলশাখালী ইউপি চেয়ারম্যান আবু নাছির, বগাচত্বর ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশীদ, ভাসাইন্যাদম ইউপি চেয়ারম্যান হযরত আলী, কালাপাকুজ্জা ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তফা মিয়া উপস্থিত ছিলেন।
আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে দীপংকর তালুকদার আরও বলেন, আমাদের দেশে সমালোচক আর নিন্দুকের অভাব নেই। কিন্তু বাস্তব হচ্ছে গুলশাখালীতে বিদ্যুৎ এসেছে এটাই সত্য। পার্বত্য চট্টগ্রামে বিদ্যুতায়নের ১৬৫ কোটি টাকার প্রকল্প বাস্তবায়নের পর মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তার পরের ধাপে বরাদ্দ করেন ৫৪৫ কোটি টাকা। বর্তমানে ১৭শ’ কোটি টাকার বিদ্যুতায়নের উন্নয়ন প্রকল্প। আশাকরি এটি একনেকে অনুমোধন হয়ে যাবে। অনুমোধন পেলে এই এলাকায় একটি সাবস্টেশনসহ পূর্ণাঙ্গ বিদ্যুতায়িত করা হবে। এই উপজেলার অনেক এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ পৌঁছায়নি। আশাকরি তৃতীয় ধাপে সেসব এলাকায় বিদ্যুৎ পৌঁছাবে। আমরা মানুষকে স্বপ্ন দেখাই, আমরাও স্বপ্ন দেখি। ঘুমের ঘরে যে স্বপ্ন দেখি সেটি স্বপ্ন নয়। স্বপ্ন হচ্ছে সেটাই যে বাস্তবে ঘুমাতে দেয় না।
শেষে গুলশাখালীর চৌমুহনী বাজারের পাশে দীপংকর তালুকদার আনুষ্ঠানিকভাবে সুইচ অন করে গুলশাখালীতে বিদ্যুৎ সরবাহের উদ্বোধন করেন। এসময় বিশেষ অতিথিগণসহ এলাকাবাসীরা উপস্থিত ছিলেন।
