করোনা প্রতিরোধে প্রশাসন যেকোন কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন রাঙামাটির জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ। তিনি সোমবার বিকেলে জেলায় কর্মরত সংবাদকর্মীদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় এই হুঁশিয়ারি দেন। এসময় জেলা প্রশাসক করোনা প্রতিরোধে গত কয়েকদিনের প্রশাসনের নেয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের বিষয়টি সাংবাদিকদের অবগত করেন। তিনি বলেন, রাঙামাটিবাসী এর আগেও অনেক দুর্যোগ প্রতিরোধ করেছে। জেলা প্রশাসন সবসময় তাদের পাশে ছিলো, এখনও প্রশাসন সাধারণ মানুষের জীবন সুরক্ষায় সব পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং ভবিষ্যতেও নিবে। তিনি বলেন, তিন পার্বত্য জেলার মধ্যে প্রথমেই রাঙামাটিতে পর্যটনকেন্দ্রগুলো বন্ধ করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আমি নিজেই উদ্যোগী হয়ে প্রথমেই পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিই। এর ফলও আমরা এখন পাচ্ছি। জেলায় যাতে পর্যটক প্রবেশ করতে না পারে, তার জন্য তিনটি চেক পোস্টে প্রতিটি গাড়ি চেক করা হচ্ছে।
জেলা প্রশাসক বলেন, খাদ্যদ্রব্য মজুদ ঠেকানো ও বেশি দামে পণ্য বিক্রি ঠেকাতে প্রশাসনের ভ্রাম্যমান আদালত প্রতিদিনই বাজার মনিটরিং করছে। ইতোমধ্যে বেশ কিছু ব্যবসায়ীকে জরিমানাও করা হয়েছে। পণ্য নিয়ে যারা অপরাধ করছে, তাদের বিষয়ে প্রশাসন আরো কঠোর হবে, এমনকি জরিমানার পাশাপাশি জেলও দিবে ভ্রাম্যমান আদালত। এছাড়া যারা ওষুধে কারসাজি করে দাম বাড়াচ্ছে বা কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, তাদের বিরুদ্ধেও শীঘ্রই অভিযান চালাবে প্রশাসন।
জেলা প্রশাসক বলেন, করোনা প্রতিরোধে ইতোমধ্যে সীমান্ত দিয়ে মানুষ পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। আমি নিজেই সেক্টর কমান্ডারের সাথে কথা বলেছি। তিনি জানিয়েছেন ঠেগামুখ ও মিজোরাম সীমান্তে মানুষ পারাপার সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক এসময় আরো বলেন, ইতোমধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে বিদেশফেরতদের তিনটি তালিকা প্রশাসনের হাতে এসেছে। তাদের মধ্যে গত ১৫ দিন, এক মাস ও তিন মাসে কারা বিমানবন্দর দিয়ে দেশে প্রবেশ করেছে এবং যাদের হোমটাউন রাঙামাটি উল্লেখ করা হয়েছে তাদের তালিকা হাতে এসেছে। সে অনুযায়ী দশ উপজেলা দশ ইউএনও’র মাধ্যমে দশটি টিম কাজ করছে। তাদের মাধ্যমে মোটামুটি বিদেশফেরতদের আমরা হোম কোয়ারেন্টিনের ব্যবস্থা করেছি। এবং অনেককেই জরিমানাও করা হয়েছে। অনেকেই হোমটাউন রাঙামাটি দিলেও তারা জেলার বাইরে আছে, তাদের তথ্যও আমরা ঢাকায় জানিয়েছি। ইতোমধ্যে ১০৫জনকে হোম কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে। এছাড়া যাদের হোম কোয়ারেন্টিনে দুই সপ্তাহ পার করেছেন, এমন দশজনকে চিকিৎসকরা পরীক্ষার পর তাদের ছাড়পত্র দিয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানিয়েছেন, বিকেলের পর যেসব স্থানে লোকজন আড্ডা দেয়, সেসবও বন্ধ করা হবে। এখন সামাজিক দুরত্ব বজায় রাখতে হবে। আর এই দুরত্ব বজায় রাখার জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক কাজ করবে।
বিভিন্ন এনজিও ঋণের বিষয়ে জেলা প্রশাসক জানান, আমরা ইতোমধ্যে জেলার এনজিও সংস্থাগুলোকে ঋণের বিষয়টি শিথিল করতে বলেছি। তারা জানিয়েছেন, কেন্দ্র থেকে নির্দেশনা আসলে তবেই ঋণ পুরোপুরি বন্ধ রাখতে পারবে। তবে যারা ঋণ দিতে অপারগতা জানাবে, তাদেরকে কোনওভাবেই যেন হয়রানি বা বাধ্য করা না হয় সে বিষয়টি দেখার আহ্বান জানান জেলাপ্রশাসক। বাধ্য করা হলে জেলা প্রশাসন থেকে ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানান জেলাপ্রশাসক। এছাড়া নিয়ন্ত্রক সংস্থা মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি যদি নির্দেশনা দেয়, তবে সেক্ষেত্রে জেলা প্রশাসন থেকে ঋণ আদায় বন্ধে ব্যবস্থা নিবে।
জেলা প্রশাসক বলেন, কেউ যদি করোনা নিয়ে পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চেষ্টা করে, তবে প্রশাসন কঠোর হাতে তা দমন করবে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ যাতে করোনা নিয়ে গুজব সৃষ্টি না করে সেদিকে নজর রাখছে প্রশাসন।
এসময় সংবাদকর্মীরাও বিদেশফেরত ও বাজার মনিটরিংয়ে আরো বেশি কঠোর হওয়ার আহ্বান জানান। এছাড়া সাধারণ মানুষের পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত ক্ষুদ্র ঋণের কিস্তি উত্তোলন বন্ধ রাখারও অনুরোধ জানান। পাশাপাশি হাট-বাজারে জনসমাগম রোধের ব্যাপারেও জেলা প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
মত বিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শিল্পী রানী রায়, নেজারত ডেপুটি কালেক্টর(এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ। এছাড়া সংবাদকর্মীদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাঙামাটি প্রেসক্লাবের সভাপতি সাখাওয়াত হোসেন রুবেল, সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার আল হক, সাবেক প্রেসক্লাবের সভাপতি সুনীল কান্তি দে ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. আলী, রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি সুশীল প্রসাদ চাকমাসহ বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সংবাদকর্মীরা।
