রাঙামাটি জেলা ছাত্রলীগের বিবাদমান ‘বিরোধ’ নিরসনে উভয়পক্ষের সাথে বসে ‘সমঝোতা’য় পৌঁছানো এবং যুবলীগ নেতা নাসিরকে কুপিয়ে আহত করা ও ৮ ছাত্রলীগ ও যুবলীগ নেতার বিরুদ্ধে ‘হত্যাচেষ্টা’ মামলার ঘটনায়, করণীয় নির্ধারনে রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সহসভাপতি হাজী কামালউদ্দিন ও যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিনকে দায়িত্ব দিয়েছিলেন পার্বত্য জেলা আওয়ামীলীগের অভিভাবক ‘দাদা’ দীপংকর তালুকদার। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগও করেছিলেন এই দুই নেতা। যুবলীগ সাধারন সম্পাদক নুর মোহাম্মদ কাজল রাঙামাটি না থাকায় এবং জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি সুজন ও প্রকাশ,রাঙামাটিতে অনুপস্থিত থাকায় মঙ্গলবার পর্যন্ত বৈঠকে বসতে পারননি সিনিয়র এই দুই আওয়ামীলীগ নেতা। তবে বৃহস্পতিবার উভয় সহযোগি সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের সাথে বৈঠকের প্রাথমিক তারিখ নির্ধারন করেছিলেন তারা। কিন্তু তার আগেই মঙ্গলবার রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে আপ করা এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জেলা ছাত্রলীগের বিরোধী অংশটির শীর্ষ ৬ নেতাকে ‘সাময়িক বহিষ্কার’র সিদ্ধান্ত জানিয়ে দিয়েছে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি ও সম্পাদক। বিষয়টি নিয়ে বিব্রত দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা আব্দুল মতিন।
জেলা আওয়ামীলীগের শীর্ষ পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ এই নেতা ও জেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম সম্পাদক আব্দুল মতিন মঙ্গলবার রাতে পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কমকে জানান, ‘ ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে মীমাংসা ও করণীয় নির্ধারন ‘দাদা’ আমাকে ও কামাল ভাইকে দায়িত্ব দিয়েছেন। আমরা আগামী বৃহস্পতিবার বসার দিনক্ষনও ঠিক করেছি। যুবলীগ ও ছাত্রলীগের শীর্ষ নেতারা রাঙামাটি না থাকায় দেরি হচ্ছিলো। এখন হঠাৎ করেই কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিদ্ধান্তের কারণে আমরাও বিব্রতকর অবস্থায় পড়লাম ! সমাধানের কাজটি কঠিন ও অসম্ভব হয়ে পড়ল। এখন আমাদের করণীয় কি হবে সেটা বুঝতে পারছি না। আমরা আমাদের অভিভাবক ও সভাপতি ‘দীপংকর তালুকদার’ এর সাথে কথা বলে পরবর্তী করণীয় ঠিক করব।’
আব্দুল মতিন বলেন, সমস্যাটি স্থানীয় এবং এটা স্থানীয়ভাবেই আমরা সমাধানের চেষ্টা করছিলাম। আমরা কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগকে অনুরোধ করব এই সিদ্ধান্ত তুলে নেয়ার জন্য এবং যদি তারা সেটা না করে তবে বর্তমান কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে আহ্বায়ক কমিটি করার অনুরোধ জানানো ছাড়া কিছুই করার থাকবে না।’
প্রসঙ্গত,ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাম্প্রতিক নানা বিতর্কিত কর্মকান্ডের ঘটনায় বিরক্ত ও ক্ষুদ্ধ রাঙামাটি জেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সদস্য দীপংকর তালুকদার এমপি। একাধিক সভা সমাবেশেও তিনি তার এই ক্ষোভের বিষয়টি গোপন রাখেননি। সর্বশেষ জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি-সম্পাদককে ডেকে নিয়ে নিজের ক্ষোভ ঝাড়েন তিনি।
