কোন প্রকার পূর্বঘোষণা ঢাকাগামি রাতের কোন বাসই রাঙামাটি ছাড়েনি মঙ্গলবার রাতে। ফলে আকস্মিক বিড়ম্ভনায় পড়েছেন কয়েকশত যাত্রী ! রাঙামাটি থেকে রাতে রাজধানী ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া নিয়মিত বাস সার্ভিস ইউনিক,শ্যামলী,হানিফ,ডলফিন এবং সেন্টমার্টিন পরিবহনের কোন বাস রাঙামাটি ছাড়তে না পারায় আকস্মিক বিপাকে পড়েন তারা। মূলত: রাঙামাটির বাস মালিক ও রাউজানের বাস মালিকদের মধ্যকার বিরোধের জেরে রাউজানে বাস আটক করে রাখার জেরে বাসগুলো শহর ছাড়তে পারেনি বলে জানিয়েছেন রাঙামাটি বাস মালিক সমিতির সভাপতি মঈনুদ্দিন সেলিম।
তিনি জানিয়েছেন, পাহাড়ীকাসহ রাঙামাটি থেকে চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামি সকল বাসে নিয়মিত চাঁদাবাজি করে আসছে রাউজানের কিছু বাস মালিক । দীর্ঘদিনের এই অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। নানাভাবে দেনদরকার করেও এই সমস্যার সুরাহা না হওয়ায় মঙ্গলবার রিজার্ভবাজারে বাস মালিক শ্রমিকরা পাহাড়ীকা বাস চলাচল বন্ধ করে দেয়। এরপর সমঝোতা বৈঠকের পর চালু করা হয় সার্ভিস। কিন্তু রাতে রাউজানে সমঝোতা ভঙ্গ করে ঢাকাগামি বাস আটকে দেয় একদল উশৃংখল মানুষ। ফল ঢাকার কোন বাস রাঙামাটি ছাড়তে পারেনি।
পরিবহন ব্যবসায়ি হারুনর রশীদ জানিয়েছেন, রাঙামাটি একটি পৃথক জেলা এবং আয়তনে দেশের সবচে বড় জেলা। কিন্তু যেহেতু চট্টগ্রামের রাউজানের উপর দিয়ে আমাদের সব যান চলাচল করতে হয়,তাই রাউজানের মালিক শ্রমিকদের কাছেই বছরের পর বছর ধরে জিম্মি রাঙামাটিবাসি। এই অবস্থার প্রতিবাদ করা উচিত।’
এদিকে আকস্মিক বাস চলাচল বন্ধ হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েন অনেকেই। ঢাকাগামি বাসের যাত্রী ও সংবাদকর্মী সাইফুল বিন হাসান বলেন, আমি জরুরী একটি কাজে ঢাকা যাওয়ার জন্য আগেই টিকেটি করেছিলাম। রাত সাড়ে আটটায় ডলফিন কাউন্টারে যাওয়ার পর জানলাম বাস যাচ্ছে না। রাউজানে নাকি বাস আটকানো হচ্ছে। এটা কেমনতর কথা ! কোন প্রকার পূর্বঘোষণা ছাড়া এই ধরণের কাজ কিভাবে করতে পারে ?’
নিয়মিত যাত্রীদের পাশাপাশি রাঙামাটিতে বেড়াতে আসা পর্যটকরাও পড়েছেন বিড়ম্ভনায়। অনেকেই রাজধানীতে ফিরতে না পেরে বাস কাউন্টার থেকে আবার হোটেলে ফিরেছেন অনিশ্চয়তায়।
