অরণ্য ইমতিয়াজ
বিএনপির জেলা কমিটির নতুন সভাপতি-সম্পাদক নির্বাচন আসছে ৯ জুন। সেই নির্বাচনে ভোটাভুটিতে অংশ নিবেন ভূট্টো বনাম দীপু,মামুন বনাম পনির,সে খবর পুরনোই। তবে সে খবর ছাপিয়ে এখন নতুন খবর,এই লড়াইয়ে ‘অজানা কারণ’-এ যুক্ত হয়েছেন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও বর্তমানে কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট দীপেন ও তার ভাগিনা সহ তথ্য প্রযুক্তি সম্পাদক শ্বাশত চাকমা রিংকু ! সম্পর্কে ‘মামু-ভাগিনা’ এই দুই বিএনপি নেতা ‘হুট’ করেই ‘গরম আর অনিশ্চিত’ করে দিয়েছেন ভোটের মাঠকে ! চাকমা ভাষায় সচরাচর মামাকে মামু নামেই সম্বোধন করা হয়। পারিবারিক সম্পর্কে দীপেন ও রিংকু মামা ভাগিনা যেমন,তেমনি বিএনপির গ্রুপিং রাজনীতিতেও রিংকু বরাবরই মামা দীপেন’র ঘনিষ্ঠ অনুসারি । বুধবার মামা-ভাগিনা দুই পদে মনোনয়ন নিয়ে চমকে দিয়েছে চার প্রার্থী ও বিএনপির সব নেতাকর্মীদের। তবে বিষয়টিকে ‘খুব সহজ’ সমীকরণ বলে মানছেন না অনেকেই। নেতাকর্মীরা নানান বিশ্লেষন করছেন,পেছনের গল্প খুঁজছেন।
আপাতত দুই-দুইয়ের লড়াই দৃশ্যত তিনে-তিনের লড়াই বলে মনে করা হলেও ভোটের মাঠে শেষ পর্যন্ত দুই পদের তিন প্রার্থীর মধ্যে শেষতক মাটি কামড়ে থাকবেন কে কে এখনই বলা মুশকিল।
কিন্তু নেতাকর্মীরা কেউ কেউ বাড়তি দুই প্রার্থীকেই ‘ডেমো প্রার্থী’ ভাবছেন, কেউ ভাবছেন ‘তুরুপের তাস’ আবার কেউ কেউ একেই ‘ট্রামের উপর ওভারট্রাম্প’ও ভাবছেন ! গত কদিনে দুইভাগে বিভক্ত কর্মীরা এবার হয়ত তেভাগা হবে! হোক না তা যতই ছোট ছোট অংশ,তবুও বিভক্তিই তো ! হয়ত এসব বহুদাবিভক্তিই জমিয়ে দিবে উপ-নির্বাচনের ভোটের রঙ !
মনোনয়ন নেয়া ছয় নেতা,যারা লড়তে চান দুই পদে !তবে এ বিভক্তি কোন দিকে বাঁক নিবে এখনই বলা যাবেনা। কারণ সভাপতি পদের প্রার্থী ভূট্টোতো দীপেনরই অনুসারি ! রিংকুও ! তাহলে হিসাবটা কি হবে ? একই গ্রুপের দুইজন প্রার্থী হবেন, এটা কোন বোকাকর্মীও বিশ্বাস করেনা বিএনপির ! হয়ত এটাও একটা ‘খেলা’ ! হয়ত সভাপতি পদে বদলে যেতে পারে বিএনপির এই অংশের প্রার্থী ! কিংবা একজন নিজেকে সরিয়ে নিবেন। অন্যদিকে সাধারন সম্পাদক পদে মুখোমুখি হওয়া দুজনই একই গ্রুপের ! তার দুজন সর্বশেষ সম্মেলনের দীপুর জন্য যুগল বিসর্জনের মত যদি এবার একজন আরেকজনকে সমর্থন দিয়ে সরে যায়,সেই ভাবনাকে দূরে রাখতেই হয় দীপেন-ভূট্টোর অংশ সাধারন সম্পাদক পদেও একজনকে ‘ঠাঁয় দাঁড় করিয়ে রাখবেন’ ! আপাতত সেই প্রার্থী অথবা গাছটি সম্ভবত রিংকুই !
সভাপতি পদের মূল প্রার্থী দীপন তালুকদারের উপর দীপেন ও তার অনুসারিদের ক্ষোভ আছে,আছে রাগ,জিঘাংসাও। দীপেন’র রাজনীতিকে ‘সংক্ষিপ্ত’ ও ‘জটিল’ করে ফেলার দায় যাদের দেন তারা,তারই একজন দীপু। সুতরাং দীপুর উপর পুরনো রাগের প্রতিশোধ নিতে চাইবেন দীপেনরা, এটা স্বাভাবিকই। আর এই প্রতিশোধপর্বে পর্দার আড়ালে কে কে যে কোথায় বলি হয়ে যায় কে জানে !
তবে এনিয়ে তাৎক্ষনিক বুধবার মুখ খোলেননি চার প্রার্থী ও তাদের অনুসারিরা। একটু ধৈর্য্য নিয়েই অপেক্ষা করছেন হয়ত। কৌশল বুঝে নিয়েই হয়ত খোলাসা করবেন অবস্থান। কিন্তু রূঢ় কঠিন সত্য হলো,দুই-দুইয়ে চারের লড়াইয়ে যুক্ত হয়ে দীপেন আর রিংকু,‘মামু-ভাগিনা’ আপাতত এলোমেলো করে দিলেন দাবার বোর্ড ! এখন দেখার পালা,শেষের দিকের চালগুলো কে কতটা সেয়ানা দিতে পারেন !
