লংগদু প্রতিনিধি
রাঙামাটির লংগদুতে ইউনিয়ন যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে হট্টগোলের ঘটনা ঘটেছে। বুধবার সকালে উপজেলার কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন পরিষদ মিলনায়তনে যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনের উদ্বোধনের পর প্রথম অধিবেশনে আলোচনা সভাও অনুষ্ঠিত হয়। দুপুরের খাবার বিরতির পর কাউন্সিল অধিবেশনের শুরুতে ভোটার তালিকা নিয়ে হট্টগোল শুরু হয়। উপস্থিত জেলা ও উপজেলার নেতাদের চেষ্টার পরও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। পরে কাউন্সিল স্থগিতের ঘোষনা দেন জেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি শহিদুল আলম স্বপন।
কর্মীদের দাবী, ইউনিয়ন কমিটির ৪১ সদস্যর সংখ্যা বর্ধিত করে ৬১ জন করা হয়। তবে এই বিশ জনের বেশিরভাগ সদস্যই যুবলীগের ইউনিয়ন সভাপতি প্রার্থী আবুল কালামের পরিবারের সদস্য। এই তালিকা অবৈধ বলে হট্টগোল শুরু করেন কাউন্সিল অধিবেশনে যোগ দেওয়া কাউন্সিলররা।
এ বিষয়ে ইউনিয়ন যুবলীগ নেতা ও সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী আবুল হাসেম বলেন, যে ২০ জন কাউন্সিলরকে নিয়ে সমালোচনা হচ্ছে তারা বৈধভাবেই কমিটিতে অর্ন্তভুক্ত হয়েছে। আমি নিজেও এই কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। আমার জানামতে এই ২০ জন সদস্য অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত নয়। 
লংগদুতে যুবলীগের উপজেলা ও ইউনিয়ন কমিটি গঠন করা হয় ২০১০ সালে। দীর্ঘ বারো বছরে অনেক নেতা যুবলীগ ছেড়ে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছে। ফলে যুবলীগের মূল নেতৃত্ব একটি সংকটের মধ্যে পড়ে ছিল। বর্তমানে এই সংকট থেকে উত্তোরণের জন্যই যুবলীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
এ বিষয়ে যুবলীগের কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন শাখার তৎকালীন সভাপতি জামাল হোসেন বলেন, যুবলীগের সম্মেলন ঘিরে যে হট্টগোলের সৃষ্টি হয়েছে তা উদ্দেশ্যমূলক। সভাপতি প্রার্থী আবুল কালাম ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ৪৬ নাম্বার সদস্য। গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সে যুবলীগের প্রার্থী হতে পারেনা। তার প্রার্থিতা বাতিল হওয়ার সম্ভাবনা দেখেই তার অনুসারিরা এই হট্টগোলের সৃষ্টি করেছে। শহীদ এবং হাসু নামের দুজন কাউন্সিলর আমার গায়ে হাত তুলছে। আমাকে ধাক্কা দিয়েছে। উপজেলা কমিটির সাংস্কৃতিক বিষয়ক সম্পাদক মো. জুয়েল মাইকের তার খুলে দিয়েছে। এরাই সবাই আবুল কালাম ও তার ভাই ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি আবু তাহেরের অনুসারি। তাদের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে আজকের কাউন্সিল পন্ড করা হয়েছে।
তিনি আরো বলেন, আমি যুবলীগের সভাপতি থাকাকালিন কমিটির ২০জন সদস্যকে উপজেলা কমিটির অনুমোদন নিয়ে অন্তর্ভুক্ত করি। তারা সবাই আওয়ামী লীগে রাজনীতির সাথে যুক্ত। অথচ তাদের বিরুদ্ধে বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত থাকার মিথ্যা অভিযোগ আনা হয়েছে।
যুবলীগের লংগদু উপজেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রফিকুল ইসলাম বলেন, সাংগঠনিক কিছু জটিলতার কারনে কালাপাকুজ্যা ইউনিয়ন যুবলীগের কাউন্সিল সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। শিঘ্রই এ বিষয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হবে। আপাতত উপজেলা কমিটি এই ইউনিয়নের অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করবে।
সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন লংগদু উপজেলা যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সুভাষ চন্দ্র দাশ। কাউন্সিল অধিবেশনে হট্টগোল ও স্থগিতের বিষয়ে তিনি বলেন, কাউন্সিলে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দি¦তা কারায় তাদের মধ্যে একটা প্রতিযোগীতার মনোভাব ছিল। ফলে একপক্ষ অন্য পক্ষের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ দেয়ার চেষ্টা করে। অভিযোগের একটা বড় বিষয় ছিল কমিটির বর্ধিত ২০ সদস্যর বিরুদ্ধে। আমরা সেটাও যাচাই করে দেখেছি যে অভিযোগ ভিত্তিহীন। তবে কাউন্সিল অধিবেশন শুরু করতে পরলে অভিযোগের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা যেত এবং সমাধানের সুযোগ পাওয়া যেত। কিন্তু কর্মীদের হট্টগোলের কারণে কাউন্সিল করা সম্ভব হয়নি আপাতত কাউন্সিল স্থগিত করা হয়েছে।
