ইয়াছিন রানা সোহেল
পাহাড় আর মেঘের মিতালী দেখতে দেশ-বিদেশের লোকজন ছুটে যায় সাজেকে। প্রতিদিনই এখানে লোকজনের আনাগোনা বাড়ছে। আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথ বেয়ে দেশের সীমান্তঘেঁষা বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে যাত্রা অ্যাডভেঞ্জার প্রিয় তরুন-তরুনীদের কাছে বেশ উপভোগ্য এবং রোমাঞ্চকরও। দল বেধে বন্ধু-বান্ধব নিয়ে কিংবা পরিবার-পরিজন নিয়ে ছুটছে সাজেকে। কিন্তু অপরিপক্ত চালক আর পাহাড়ি পথে গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা না থাকায় প্রতিদিনই এখানে বাড়ছে দুর্ঘটনা। সর্বশেষ গত এক সপ্তাহে সাজেকে আসা-যাওয়ার পথে চারটি দুর্ঘটনা ঘটে। এতে আহত হয়েছে ২৩জন। আর নিহত হয়েছে ১জন।
শুক্রবার দুপুরে খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়কের ত্রিপুরা পাড়া এলাকায় জীপ ও সিএনজি অটোরিক্সার মুখোমুখি সংর্ঘষ হয়। দুর্ঘটনায় দুমড়ে-মুচড়ে যায় সিএনজি অটোরিক্সা আর সিএনজি চালকসহ ৪জন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। গুরুতর আহত সিএনজি আরোহী হালিমা চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এদিকে গত বুধবার দুপুরে দীঘিনালা সড়কে পর্যটকবাহী চাঁদের গাড়ি দুর্ঘটনায় পড়ে আহত হয় দুইজন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয়রা জানান, বেপরোয়া যান চলাচলের কারণেই এসব দুর্ঘটনা ঘটে। খাগড়াছড়ির দীঘিনালা সড়ক ও সাজেকে যাওয়ার পথ আঁকাবাঁকা হওয়ায় এসব পথে দুর্ঘটনা ঘটে। অদক্ষ চালক ও বেপরোয়া চালানোর কারণেই অধিকাংশ দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে করে হতাহতের সংখ্যাও বাড়ছে। বছরের শুরুতে সাজেকের রুইলুইয়ে পর্যটকবাহী গাড়ি খাদে পড়ে সেনাবাহিনীর এক মেজরসহ ৮জন আহত হয়। এছাড়াও পাহাড়ি পথে বেপরোয়া গাড়ি চালাতে গিয়ে প্রায় সময় দুর্ঘটনা ঘটে। আর গত সাত দিনে এই রুটে সড়ক দুর্ঘটনায় ২৩ জন হতাহত হয়েছে।
বাঘাইছড়ির সংবাদকর্মী ওমর ফারুক সুমন জানান, সাজেক সড়কে যে সকল চালক গাড়ি চালান তাদের অধিকাংশই অদক্ষ ও অনভিজ্ঞ। তাছাড়া সড়কে চলাচলের সময় প্রায় সকল চালকই গতির প্রতিযোগীতায় মেতে উঠেন। এসকল বেপরোয়া যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে পুলিশ বা স্থানীয় প্রশাসনের কোন নজরদারী নেই বললেই চলে। তাই দিন দিন সাজেক সড়কটি অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। এতে পর্যটকসহ স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ পরিলক্ষিত হচ্ছে। তাই দ্রুত এসকল বেপরোয়া যানচলাচল নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে বড়সড় দূর্ঘটনার আশংকা রয়েছে।
