ইয়াছিন রানা সোহেল
রাঙামাটি- কাপ্তাই সড়কে ৬ টি সিএনজি অটোরিকশাসহ চালকদের জিম্মি করেছে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীরা, এমন খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলের কাছ থেকে অটোরিকশাগুলো এবং চালকদের উদ্ধার করেছে সেনাবাহিনী ও পুলিশ সদস্যরা। শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি কাপ্তাই আসামবস্তি সড়কের ঝগড়াবিল তঞ্চঙ্গ্যাপাড়া সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন চালক সমিতির নেতারা।
চালকদের সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার বিকেলে রাঙামাটি কাপ্তাই সড়কে চলাচলরত ৬টি সিএসজি অটোরিকশা ও অটোরিকশার চালকদের অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখে। এসময় চালকদের মোবাইল, গাড়ির চাবি ও টাকা কেড়ে নেয় সন্ত্রাসীরা। সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে যে ৬ চালককে জিম্মি করে রাখে তারা হলেন, চালক মোঃ আশিক (৩৬) পিতাঃ মৃত আলাউদ্দিন, কাপ্তাই ব্যাঙছড়ি, মুসলিম পাড়া, কাপ্তাই। ( সিএনজি চট্টগ্রাম -থ-১৪-৬৪৮৪), মোঃ বশির (৫০) পিতাঃ মৃত আনোয়ার হোসেন ভূইয়া, তবলছড়ি মসজিদ কলোনী, রাঙামাটি সদর,(সিএনজি চট্টগ্রাম -থ-১১-০৪০৩), মোঃ আবু জাফর (৩৮) পিতাঃ মৃত জুলকু মিয়া। গ্রামঃ তবলছড়ি মসজিদ কলোনী, রাঙামাটি সদর, মোঃ বাবু (১৯) পিতাঃ মোঃ ইলিয়াস, কাটা পাহাড়, পুরাতন পুলিশ লাইন, রাঙামাটি সদর, মোঃ সামীম হক পিতাঃ মোজ্জামেল হক, বালুছড়া, হাটহাজারী থানা, চট্টগ্রাম জেলা।
খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে ৬ জন চালক ও ৬টি অটোরিকশা উদ্ধার করে। সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে যাওয়ার খবর পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়। এলাকাটি প্রভাবশালী একটি আঞ্চলিক দলের নিয়ন্ত্রিত এলাকা বলে অভিযোগ চালকদের।
রাঙামাটি অটোরিকশা চালক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান বাবু জানান, এক চালক আমাকে মোবাইলে বিষয়টি জানান। খবর পেয়ে দ্রুত সেনাবাহিনী ও পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করি। সন্ধ্যার দিকে সেনাবাহিনী ও পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে চালকদের ও অটোরিকশা ৬টি উদ্ধার করে।
কোতয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জ জানিয়েছেন, অটোরিকশাসহ ৬জন চালককে সন্ত্রাসীরা অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে রাখার খবর পেয়ে সেনাবাহিনী ও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা পালিয়ে যায়।
তবে এই বিষয়ে ওই এলাকায় সক্রিয় আঞ্চলিক দলটির নেতাদের কোন ভাষ্য জানতে পারেনি পাহাড়টোয়েন্টিফোর ডট কম।
প্রসঙ্গত,রাঙামাটি শহর ও আশপাশের এলাকায় আভ্যন্তরীন চলাচলের একমাত্র বাহন অটোরিকশা। এসব যানগুলোকে শহরের বাইরের সড়কগুলোতে চলার জন্য নিয়মিতভাবে আঞ্চলিক একাধিক দলের সশস্ত্র গ্রুপকে মাসোহারা প্রদান করতে হয়, এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। চাঁদা নিয়ে টানাপোড়েনে বিভিন্নসময় চালকদের হত্যা,গাড়ী ছিনিয়ে নেয়াসহ নানান ঘটনার তথ্য উঠে আসলেও আঞ্চলিক কোন দলই এর দায় স্বীকার করেনি কখনই।
