খাগড়াছড়ি রিজিয়নের আওতাধীন লংগদু সেনা জোনের উদ্যোগে উপজেলার দুস্থ ও বেকারদের বিশেষ করে মহিলাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে যুব মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ শেষে সদনপত্র ও সেলাই মেশিন বিতরণ করা হয়। মঙ্গলবার লংগদু সেনা জোন সদর মাইনীমুখ সেনা ক্যাম্পে সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে আয়োজিত সনদপত্র ও সেলাই মেশিন বিতরণী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন লংগদু সেনা জোনের অধিনায়ক লেঃ কর্নেল আঃ আলীম চৌধুরী পিএসসি।
এসময় তিনি বলেন, উপজেলার দুস্থ ও বেকার মানুষদের বিশেষ করে মহিলাদের স্বাবলম্বী ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে এলাকার যুব মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা ও সেলাই মেশিন বিতরণ উদ্যোগ নিয়েছি। গত ১৬ ডিসেম্বর ২০১৬ইং থেকে লংগদু জোন প্রতিষ্ঠা করে ২৪ জনের ধারণক্ষমতা বিশিষ্ট ‘কমিউনিটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’। আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো ও নিরাপত্তাবেষ্টিত পরিবেশে দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশিক্ষকের তত্ত্বাবধানে ২৪ জন প্রশিক্ষণার্থী সেলাই প্রশিক্ষণ গ্রহণ করেছেন। এই প্রশিক্ষণে অদ্যবধি ৪৮ জন সফলতার সাথে এই প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন। যারা এই ‘কমিউনিটি সেলাই প্রশিক্ষণ কেন্দ্র’ থেকে ১ম, ২য় ও ৩য় ব্যাচে প্রশিক্ষণ সম্পন্ন করেছেন তাদের প্রত্যেকের সনদপত্র এবং শুধুমাত্র ১ম ও ২য় ব্যাচের ৩২ প্রশিক্ষণার্থীর মধ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন ও লংগদু উপজেলা প্রশাসন, লংগদু উপজেলা পরিষদ এবং লংগদু সেনা জোনের সহায়তায় প্রশিক্ষণার্থীদেরকে সেলাই মেশিন ও সনদপত্র প্রদান করতে পারছি।
জোনের সেনা কর্মকর্তা মোঃ সাদেক এর পরিচালনায় অতিথির মধ্যে বক্তব্য রাখেন লংগদু উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোঃ তোফাজ্জল হোসেন। তিনি বলেন, জোনের এই মহতি উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। এই উদ্যোগ যাতে অব্যাহত থাকে তার জন্য অনুরোধ করছি। সেনাবাহিনী আমাদের দেশের গৌরব ও অহংকার। এই এলাকায় একসময় ম্যালেরিয়ায় সেনাবাহিনীর সদস্যসহ অনেক মানুষ মারা গেছে। আজকে সেখানে সেনাবাহিনী উন্নয়নে কাজ করে যাচ্ছে। যারা সেলাই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে তাদের জন্য আমরা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে সেলাই মেশিন সরবরাহ করতে পারবো। আপনারা এই প্রশিক্ষণকে কাজে লাগাবেন। এই প্রশিক্ষণকে সবসময় চালু রাখার জন্য অনুরোধ করবো জোনের কাছে।
লংগদু উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোহাম্মদ মোসাদ্দেক মেহেদী ইমাম বলেন, যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা সৌভাগ্যবান। এই প্রত্যন্ত অঞ্চলে চকমৎকার পরিবেশে প্রশিক্ষণ পেয়েছেন। উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে যে সকল প্রশিক্ষণ হয়, সেগুলো এই ধরনের উন্নতমানের হয় না। যারা প্রশিক্ষণ নিয়েছেন তারা অবশ্যই অন্যকেও এই প্রশিক্ষণ নিতে বলবেন। আমরা উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আরো সেলাই মেশিন প্রদানে সহায়তা করতে পারবো।
লংগদু থানার অফিসার ইনচার্জ রঞ্জন কুমার শামন্ত বলেন, বর্তমান জোন কমান্ডার এই উপজেলায় উন্নয়নের জন্য যে সকল পদক্ষেপ নিয়েছেন তা অত্যন্ত ধন্যবাদ পাওয়ার যোগ্য। রাঙামাটি জেলা পরিষদের সদস্য মোঃ জানে আলম বলেন, জোনের উদ্যোগে শুধু সেলাই প্রশিক্ষণ নয়, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ, এবং স্কুলের সমস্যাও সমাধানে এগিয়ে এসেছেন। আটারকছড়া ইউপি চেয়ারম্যান মঙ্গল কান্তি চাকমা বলেন, আমি শুধু লংগদু জোনকে অনুরোধ করবো পরবর্তীতেও যাতে এই ধরনের মহৎ কাজ অব্যাহত থাকে। অন্যান্য ইউনিয়নেও এইধরণের প্রশিক্ষণ ব্যাবস্থা করা গেলে আরো ভালো হতো। অন্তত পিছিয়ে পড়া বেকার যুবক যুবতীদের অনেক কাজে লাগতো।
সেলাই প্রশিক্ষণার্থী কোহেলি চাকমা অনুভূতি করে বলেন, আমি সেলাই প্রশিক্ষণ নিয়েছি। সনদপত্র ও সেলাই মেশিনও পেলাম আমি অনেক খুশি। আমি বাড়িতে বসে নিজেকে স্বাবলম্বী হতে চেষ্টা করবো এবং স্বামীকে সহায়তা করতে পারবো।
প্রধান অতিথি লংগদু জোন কমান্ডার লেঃ কর্নেল আঃ আলীম চৌধুরী বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, আমরা মেধা দিয়ে চেষ্টা করেছি অত্র এলাকায় সবচেয়ে বেকার দূরীকরণে এবং শিক্ষা উন্নয়নে কাজ করার। তাই আমি বেকার দুস্থ মহিলাদের সেলাই প্রশিক্ষণ, যুবকদের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কোর্স চালু করেছি। এছাড়া সম্প্রতি উপজেলা সদরে একটি স্কুলও নতুন উদ্যোগে চালু করেছি। উদ্দেশ্য ছিলো এখানকার বসবাসরত পাহাড়ি বাঙালি মহিলা, যুবক, ছাত্র ছাত্রীরা যাতে উপকৃত হতে পারে। এই অল্প সময়ে এরচেয়ে বেশি করতে পারিনি। ইউনিয়ন পর্যায়ে করার বিষয়টি আমরা আপনাদের নিয়ে ভেবে দেখবো। যদিও আমাদের মধ্যে সীমাবদ্ধতা আছে। আমাদের মনে রাখতে হবে কোন কিছুই ফেলনা নয়। তাই, এই প্রশিক্ষণও একদিন আপনাদের কাজে লাগবে। আমরা জোনের পক্ষ থেকে যা কিছু করেছি যাতে আমরা সকলে মিলে মিশে শান্তিতে থাকতে চাই। উন্নয়নে এগিয়ে যেতে চাই। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যেতে চাই, এটাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।
