মিশু মল্লিক ॥
রাঙামাটি সদর উপজেলার এক স্কুলছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক যৌন নিপীড়ন ও শ্লীলতাহনির অভিযোগে ছাত্রীটির গানের ও প্রাইভেট শিক্ষক রণজিত পাটোয়ারীকে (৫৫) নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ৮ বছরের সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার আদেশ দিয়েছে আদালত। বৃহস্পতিবার দুপুরে রাঙামাটি নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এ. ই.এম ইসমাইল হোসেন এই রায় ঘোষণা করেন।
রায়ে উল্লেখ করা হয়, রাঙামাটি সদর উপজেলার এক স্কুলছাত্রী সপ্তম শ্রেণীতে পড়াকালীন সময় থেকে রণজিত পাটোয়ারীর কাছে প্রাইভেট পড়তো ও গান শিখতো। স্কুলছাত্রী নবম শ্রেণীতে উঠার পর থেকেই ঘটনার শুরু হয়। শিক্ষক রণজিত পাটোয়ারী চার বছর যাবৎ বিভিন্ন সময়ে ছাত্রীটিকে বিভিন্ন অশ্লীল কথা, কুপ্রস্তাব ও শ্লীলতাহানি করার চেষ্টা করে। পরে ছাত্রীটির পরিবারের পক্ষ থেকে শিক্ষক রণজিত পাটোয়ারীর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের উপস্থাপিত মৌখিক, দালিলিক ও পারিপাশির্^ক সাক্ষ্য বিবেচনায় রাষ্ট্রপক্ষ আসামি বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছে, এবং আসামিকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০ এর ১০ ধারার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করা হয় মর্মে রায়ে উল্লেখ রয়েছে।
উক্ত অপরাধের দায়ে তাকে ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড এভং ৫ লক্ষ টাকা জরিমানার দন্ড অনাদায়ে আরো ২ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হয়। এই অর্থদন্ড আদায় করে ভিকটিমকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদানের নির্দেশ দেয় আদালত।
এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের পিপি সাইফুল ইসলাম অভি বলেন, যৌন নিপীড়নের দায়ে আসামিকে দোষী সাব্যস্ত করে ২০০০ এর ১০ ধারায় ৮ বছর সশ্রম কারাদন্ড ও ৫ লক্ষ টাকা অর্থদন্ড প্রদান করেছে আদালত। এই রায়ে আমরা খুশি। শিক্ষকতার মত মহান পেশাকে কলঙ্কিত করার দায়ে যে রায় হয়েছে এতে আমার মনে হয় সমাজ থেকে এই রকম অপরাধ দূর হবে এবং শিক্ষক-শিক্ষার্থীর মধ্যে যে সম্মানজনক মনোভাব তা ঠিক থাকবে।
উল্লেখ্য, গত ২৬-০৪-২০১৯ খ্রি তারিখ হতে গত ১০-০৩-২০২১ খ্রি তারিখ পর্যন্ত প্রায় দুই বছর সময় ধরে বিভিন্ন সময়ে কমপক্ষে তিনবার শ্লীলতাহানি ও যৌন নিপীড়ন করেন রণজিত পাটোয়ারী। যা ১২-০৬-২০২১ খ্রি কোতয়ালী থানায় মামলটি দায়ের করা হয়। প্রায় দেড় বছর পর মামলার রায় দিল আদালত।
