একনামেই পরিচিত ছিলো সে‘জ্ঞানশংকর’। পুরো নাম জ্ঞান শংকর চাকমা। পার্বত্য রাঙামাটির ক্ষুদে ব্যবসায়ি থেকে শুরু করে বড় ব্যবসায়ি, পরিবহন চালক কিংবা মালিক, এমনকি জনপ্রতিনিধি,সবার কাছেই পরিচিত এই নামটি। কারণ একটি বিশেষ আঞ্চলিক দলের প্রধান চাঁদা সংগ্রহকারির দায়িত্ব পালন করা জ্ঞানশংকর,শহরের প্রাণকেন্দ্র বনরূপায় বসেই প্রকাশ্যেই সংগ্রহ করতেন চাঁদা। দাপুটে এই জ্ঞানশংকরই বুধবার বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়িতে অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছে। তার মৃত্যুর পর ঘটনাস্থল থেকে বিপুল পরিমাণে আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে যৌথবাহিনী।
যৌথবাহিনী ও স্থানীয়রা জানায়, জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দোছড়ি ইউনিয়নের মিয়ানমার সীমান্তবর্তী তুলাতলী ডলুঝিড়ি রাস্তারমুখ এলাকায় অস্ত্রধারী চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের অবস্থানের খবর পেয়ে র্যাব-সেনাবাহিনীসহ যৌথবাহিনীর একটি ঘটনাস্থলে অভিযান চালায়। এসময় অস্ত্রধারী সন্ত্রাসীদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর গোলাগুলির ঘটনা ঘটে। যৌথবাহিনীর অভিযানের মুখে টিকতে না পেরে সন্ত্রাসীরা গুলি ছুড়তে ছুড়তে পাহাড়ের অরণ্যে গহীন জঙ্গলে পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল জ্ঞান শংকর চাকমা নামে এক চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। এছাড়াও ঘটনাস্থল থেকে ৭টি এসএমজি, ৪৩৭ রাউন্ড অস্ত্রের গুলি এবং ১১ রাউন্ড গুলি খালি খোসা’সহ সন্ত্রাসীদের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়।
র্যাব-৭ এর কর্মকর্তা মিফতা উদ্দিন বলেন, রাঙামাটির বাঘাইছড়িতে সন্ত্রাসী হামলায় অংশ নেয়া সন্ত্রাসীরা পার্বত্য চট্টগ্রামে অধিকতর নাশকতা সৃষ্টির লক্ষ্যে বেশকিছু অত্যাধুনিক আগ্নেয়াস্ত্র ক্রয় করে ফের বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করবে নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে যৌথবাহিনী সীমান্তের বিভিন্ন স্থানে ফাঁদ পাতে। সন্ত্রাসীদের একটি দল নিরাপত্তা বাহিনীল টহলের তাড়া খেয়ে পালানোর সময় যৌথবাহিনীর পাতানো ফাঁদে আটকা পড়লে ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনাটি ঘটে। গোলাগুলিতে নিহত সন্ত্রাসী জ্ঞান শংকর চাকমা পার্বত্য চট্টগ্রামের সক্রিয় একটি সশস্ত্র সংগঠনের দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী এবং রাঙামাটি জেলার চিফ চাঁদা কালেক্টর। পার্বত্য চট্টগ্রামের শান্তি সম্প্রীতি ও উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে সন্ত্রাসী কার্যক্রম বন্ধে যৌথবাহিনীর অভিযান অব্যাহত থাকবে।![]()
বিষয়টি নিশ্চিত করে নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন জানান, যৌথবাহিনীর অভিযানে নিহত সন্ত্রাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত সন্ত্রাসী বাঘাইছড়ি হামলায় জড়িত ছিলো। যৌথবাহিনীর অভিযোগ পেলেই আইনগতভাবে মামলা করা হবে।