একই মায়ের পেটের সন্তান তারা। বড় হয়েছে একই পরিবারে,একই শহরে,একই আলোছায়ায়। পরষ্পরের প্রতি শ্রদ্ধা কিংবা ভালোবাসার কমতিও নেই এতটুকুও। উৎসবে পার্বণে ঠিকই একবোন ভালোবেসে আরেক বোনকে আগলে ধরেন,শ্রদ্ধায়,স্নেহে,ভালোবাসায়। কিন্তু রাজনীতি তাদের পরিচয়ে দাঁড় করিয়েছে ভিন্ন মাত্রা।
একজন সেই ছোটবেলা থেকেই ছাত্রলীগ হয়ে এখন আওয়ামীলীগের নেত্রী। দায়িত্ব পালন করছেন রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবেও। একসময় সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে পরাজিত হলেও সর্বশেষ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে সংসদ সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন দাপটের সাথেই। দ্বিতীয় মেয়াদে আরো অনেকের মতো ছিটকে পড়লেও আওয়ামীলীগের ত্যাগি এবং পরীক্ষিত নেত্রী হিসেবে এখনো দাপিয়ে বেড়াচ্ছেন মাঠে ময়দানে। সম্প্রতি শেষ হওয়া রাঙামাটি জেলার বিভিন্ন উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলনে অতিথি হিসেবে তাকে দেখা গেছে সভামঞ্চে। দীর্ঘদিন ধরে রাঙামাটি জেলা মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসা এই নেত্রীর নাম ফিরোজা বেগম। সংক্ষেপে ‘চিনু’ মানেই পরিচিত তিনি। নেতাকর্মীদের কাছে তিনি তুমুল জনপ্রিয় ‘চিনু আপা’ নামেই !
ফিরোজা বেগম চিনুর ছোটবোন মিনারা বেগম। ছোটবেলা থেকেই ছাত্রদল হয়ে বিএনপি রাজনীতিতে জড়িত মিনারা জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের দায়িত্ব পালন করে আসছেন বহুদিন ধরে আহ্বায়ক হিসেবে। কিন্তু ৯ নভেম্বর কেন্দ্রীয় কমিটি এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যে ১৫১ সদস্য বিশিষ্ট রাঙামাটি জেলা কমিটির ঘোষণা দিয়েছে,তাতে সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত মিনারাকেই। বরাবরই আন্দোলন সংগ্রামে মাঠে সক্রিয় মিনারার প্রতি আস্থা আছে নেতাকর্মীদেরও। তাই অনেকেই শুভেচ্ছার স্ট্যাটাসে ভাসাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমও।
মহিলা আওয়ামীলীগের সভাপতি বড় কোন ফিরোজা বেগম চিনু আর জাতীয়তাবাদী মহিলা দলের সভাপতি মিনারা বেগম। দুই বোনের একই জেলায় প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বি দুই দলের শীর্ষ দুই পদে দায়িত্ব পালন করা সম্ভবত বাংলাদেশের রাজনীতিতেই একটি বিরল রেকর্ড বটে !
