বান্দরবান প্রতিনিধি
নানা আয়োজনে বান্দরবানে বৌদ্ধ পূর্ণিমা পালিত হয়েছে। শনিবার আড়াই হাজার বছর আগে বৌদ্ধ ধর্মের প্রবর্তক গৌতম বুদ্ধের জন্ম, বুদ্ধত্ব লাভ ও প্রয়ান ত্রি-স্মৃতি বিজড়িত দিনটিকে বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা ধর্মীয় প্রার্থনা এবং বটবৃক্ষে চন্দন কাঠের পবিত্র জল ছিটানোর মাধ্যমে দিনটি পালন করেন। এর আগে রাজগুরু বৌদ্ধ বিহার থেকে বৌদ্ধ ভিক্ষুর নেতৃত্বে কষ্টিপাথরের বুদ্ধমূর্তিসহ একটি শোভাযাত্রা বের করা হয়। শোভাযাত্রাটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে বিহার প্রাঙ্গণের বোধিবৃক্ষতলে এসে সমবেত হয়। সেখানে পঞ্চশীল গ্রহনের পর বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নর-নারী, দায়ক-দায়িকা, উপাসক-উপাসীকাবৃন্দ চন্দনের জল ও ফুল নিয়ে বোধি বৃক্ষমূলে চন্দন জল সিঞ্চনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে।
পরে বিহারের সমবেত হয়ে পঞ্চমশীল গ্রহণ এবং হাজার প্রদীপ প্রজ্জলনের মধ্যদিয়ে দেশ ও জাতীর মঙ্গল কামনার পাশাপাশি বিশ্বের শান্তি কামনায় বিশেষ প্রার্থনা করা হয়। অনুষ্ঠানে ধর্ম দেশনা দেশ রাজগুরু বৌদ্ধ বিহারের অধ্যক্ষ ভদন্ত ড.উ সুবর্ণ লংঙ্কারা মহাথের। 
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বোমাং সার্কেলের রাজকুমার উ: মংশৈপ্রু, সাংবাদিক বাটিং মারমা, রাজ পরিবারের সদস্যবর্গ শতশত বৌদ্ধধর্মালম্বী নর-নারী দায়ক দায়িকাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
বৌদ্ধ ধর্মালম্বী শ্রীলজ্যোতি জানান, প্রতি বছর বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা বৈশাখ মাসের পূর্ণিমা তিথীকে ঝাঁকজমক পূর্ণভাবে বৌদ্ধ পূর্ণিমা হিসেবে পালন করে আসছে। এই দিনে গৌতম বুদ্ধ বুদ্ধত্ব লাভেরত্বে জন্য ২৯ বছর বয়সে গৃহত্যাগ করেন এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গুরুর কাছে শিষ্যত্ব গ্রহনের পর নিরঞ্জনা নদীর তীরে এক অশথ বা বটবৃক্ষ মূলে ৬ বছর কঠোর তপস্যার পর বুদ্ধত্ব লাভ করেন। তাই বৌদ্ধ ধর্মালম্বীদের জন্য দিবসটি অত্যন্ত তাৎপর্যময়।
Previous Articleআলীকদমে পানিতে পড়ে ২ শিশুর মৃত্যু
Next Article ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যে রাঙামাটিতে বুদ্ধ পূর্ণিমা পালন
