মানুষের ‘অনৈতিক’ আচরণে বন্ধ হয়ে গেলো একটি অসাধারন উদ্যোগ। ‘মিথ্যা তথ্য পরিবেশ’ এবং ‘বাড়তি আবেদন’ জমা দেয়ার অস্বাভাবিক হারের কারণে অনলাইনে আবেদন জমা নিয়ে নীরবে ত্রাণ পৌঁছে দেয়ার কার্যক্রমটি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন।
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে করোনাকালিন এই সংকটসময় সময়ে মধ্যবিত্ত,নিন্ম মধ্যবিত্ত,যারা সরাসরি ত্রাণ সহায়তা নিতে ‘লজ্জিত ও বিব্রত’ বোধ করেন,তাদের জন্য অনলাইনে আবেদনের উদ্যোগ নেয়া হয়। ছোট্ট একটি ফরম পূরণ করা জমা দিলেই জেলা প্রশাসনের কুইক রেসপন্স টীম বাড়ি বাড়ি গিয়ে পৌঁছে দিয়ে আসছিলো ত্রাণ। ৮ এপ্রিল চালু হওয়া এই উদ্যোগটি দ্রæতই ছড়িয়ে পড়ে এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এই ত্রাণ পৌঁছে দিতে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের ১১ জন কর্মচারীকে ১১ টি মোটরসাইকেলসহ গঠন করা হয় কুইক রেসপন্স টীমও। শুরু দিন থেকেই প্রচুর আবেদন জমা পড়তে থাকে। এবং ত্রাণ পৌঁছানো শুরু হয়।
কিন্তু ত্রাণ দিতে গিয়ে কুইক রেসপন্স টীমের সদস্যরা দেখেন যে, আবেদনকারিরা একই বাসার ৪/৫/৬ জন পৃথক পৃথক আবেদন করেছেন ! এমনকি অনেকেই আগে ত্রাণ পাওয়ার তথ্য গোপন করেছেন। তারা লক্ষ্য করেন যে, আবেদনকারিদের প্রায় ষাট শতাংশই এমন অনৈতিকতার আশ্রয় নিয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে বেশ বিব্রত অবস্থায় পড়ে জেলা প্রশাসন। শেষাবধি ১৩ এপ্রিল অনেকটা বাধ্য হয়ে অনলাইনে আবেদন জমা নেয়া বন্ধ করে দেয় তারা।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের নেজারত ডেপুটি কালেক্টর (এনডিসি) উত্তম কুমার দাশ বলেন, একটি চমৎকার উদ্যোগ মানুষের অনৈতিকতার কারণে আমরা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হয়েছি। যে ৫ দিন কর্মসূচীটি চালু ছিলো এতে আমরা প্রায় ১ হাজার আবেদন পেয়েছিলাম,যার ৬০ শতাংশই এমন অনৈতিকতার আশ্রয় নেয়া। বাকি প্রায় ৪০০ জনকে আমরা ত্রাণ পৌঁছে দিয়েছি।’
‘এই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে এখন খুঁজে খুঁজে প্রকৃত যারা ত্রাণ পায়নি,তাদেরকেই আমরা ত্রাণ সহায়তা দিচ্ছি এবং আমাদের কার্যক্রম চালু আছে’-বলেন এই কর্মকর্তা।
তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ, একজন মানুষও যেনো না খেয়ে থাকে,সেই নির্দেশনামে জেলা প্রশাসক স্যারের নির্দেশে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’
